প্রতিনিধি 12 September 2026 , 9:04:45 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ নকশা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের অষ্টম দিনে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রশ্নোত্তর পর্বে রেল খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়।

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি একটি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলমান। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসবে এবং রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি টঙ্গী-আখাউড়া অংশের ডিপিপি বা প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক তার প্রশ্নে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক বা বুলেট ট্রেন চালুর সরকারি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের সামগ্রিক রেল উন্নয়ন কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা ও সেবার মান বর্তমানের তুলনায় অনেক উন্নত হবে।
সূত্র: গালফ বাংলা



















