প্রতিনিধি 14 September 2026 , 1:19:15 প্রিন্ট সংস্করণ

ইউক্রেন ও পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইয়াহোদিন এলাকায় একটি ট্রেন লক্ষ্য করে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। হামলার কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা একই রেলপথ ব্যবহার করে একটি পৃথক ট্রেনে গন্তব্যে রওনা হয়েছিলেন। হামলাটি এমন এক সময় ঘটানো হয় যখন ওই এলাকাটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ‘উকরজালিজনিৎসিয়া’ জানিয়েছে, হামলাটি হয়েছিল জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ১৫ মিনিট আগেই ওই ট্রেনে থাকা সব যাত্রীকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। হামলার ফলে ট্রেনটির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে সিআইএ-র সাবেক প্রধান ডেভিড পেট্রাউসও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কিয়েভে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে বরিস জনসন এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলসহ অন্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই পথেই ফিরছিলেন। কূটনৈতিক ট্রেনটি সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ট বিবিসিকে জানান, ঘটনার সময় তিনি যে ট্রেনে ছিলেন, সেটি থামিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ট্রেনটি পোল্যান্ড সীমান্তের দোরোহুস্ক স্টেশনে পৌঁছায়। ইউক্রেন ও পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে আছড়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বরিস জনসন এই হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে পুতিনের ‘বিকৃত যুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনীয়দের ওপর প্রতিদিন এমন অর্থহীন আক্রমণ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোকে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান তিনি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা এই ঘটনাকে বর্বরতা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ড ইইউ এবং ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। তিনি মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছেন। এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, রুশ বাহিনীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এখন আর কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাস্তবে সীমান্তের কাছে চলে আসছে।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিশাল রেল নেটওয়ার্কই কোটি কোটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে রেল অবকাঠামো, ডিপো এবং সীমান্ত পারাপারের পয়েন্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেন এখন তার মিত্রদের কাছে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে আরও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে বারবার তাগিদ দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, সময়সূচিতে পরিবর্তন আসায় এবং রুশ হামলার ধারাবাহিক হুমকির কারণে বরিস জনসনদের বহন করা কূটনৈতিক ট্রেনটি প্রত্যাশিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তাঁদের আবার যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েক মিনিট পর জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আমরা ওই ট্রেনেই আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব হামলায় দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে।
সূত্র: প্রথম আলো



















