প্রতিনিধি 13 August 2026 , 8:40:17 প্রিন্ট সংস্করণ

প্রত্যাশিতভাবেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। জানা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে তা দাখিল করা হবে।

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি মন্ত্রিসভা থেকেও পদত্যাগ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে আসীন থাকাকালীন কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন না। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই তার সংসদীয় আসন এবং মন্ত্রিত্বের পদ শূন্য হয়ে যাবে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং ৫০(১) ধারা অনুযায়ী তার মেয়াদ পাঁচ বছর। গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ বিকাল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা ৯০ হওয়ায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবরে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তার ছেড়ে দেওয়া মহাসচিবের পদটি কে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম শোনা যাচ্ছে।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগের সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রে রুহুল কবির রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা জোরালো, কারণ তিনি মন্ত্রিসভায় নেই এবং নির্বাচনেও অংশ নেননি। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় তাদের মহাসচিব করার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা থাকতে পারে। এছাড়া ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে সংসদ সচিবালয়। এরপর সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে কে মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আলোচনায় আছেন মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা, যিনি একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক। গত নির্বাচনে তিনি বাবার পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ফখরুলের ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি এর আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা ও পরিচিতি রয়েছে।
অতীতে আবদুর রহমান বিশ্বাস ও আবদুল হামিদের মতো নেতারা স্পিকার বা মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছেড়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় মির্জা ফখরুলও তার বর্তমান পদগুলো থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। সংবিধানের ৫৬(১) অনুচ্ছেদে মন্ত্রিসভার কাঠামো এবং ৪৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাকে সব পূর্ববর্তী সরকারি ও দলীয় পদ ছাড়তে হবে।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার শর্ত অনুযায়ী, নতুন উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পদে বহাল থাকেন। তবে মির্জা ফখরুলের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে খুব শিগগিরই মহাসচিবের উত্তরসূরি এবং শূন্য আসনের উপনির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরো বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন, অন্যদিকে দলের মহাসচিব ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন নিয়ে বিএনপির পরবর্তী পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনীতিতে বেশ সরগরম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিএনপির একটি অংশের চাওয়ার স্থায়ী কমিটি থেকে মহাসচিব হোক।
তবে এই দুজনই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ভার সামাল দিচ্ছেন।
এ কারণে তাদের মহাসচিব নাও করা হতে পারে।
পরে জাতীয় কাউন্সিলে বা তার আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন করেননি, তাকে মন্ত্রিসভায়ও রাখা হয়নি।
অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো.
এ ধারায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরের মেয়াদে তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
দুই মেয়াদের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।
তারা তাদের পূর্বের পদ ত্যাগ করেছিলেন।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সূত্র: যুগান্তর



















