সারাদেশ

বেসরকারি তেল আমদানির নীতিমালার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়

  প্রতিনিধি 9 August 2026 , 4:17:25 প্রিন্ট সংস্করণ

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাত করার অনুমতি চেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের আবেদনের পর তড়িঘড়ি করে বেসরকারি খাতের জন্য এই বাজার খুলে দেওয়ার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অনুমান নির্ভর ও অসত্য তথ্য’ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে শনিবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই নীতিমালা নিয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুমান নির্ভর তথ্য প্রচার করা অনভিপ্রেত।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতেই মূলত নীতিমালার খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে জরুরি বা সংকটের সময় সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড গত ২৪ মে সরকারের কাছে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিষয়টি মতামতের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির কাছে পাঠায়। এর এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বিপিসিকে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই খসড়া নীতিমালা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। শনিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এই খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং অন্তত ৬০ দিনের মধ্যে জনমত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও মন্তব্য করেন যে, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুদ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলে তা ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য হবে। তবে সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়েই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content