আইন-আদালত

শিশুসহ যাত্রীকে বিমানে উঠতে বাধা

  প্রতিনিধি 16 September 2026 , 12:18:34 প্রিন্ট সংস্করণ

বোর্ডিং পাস পাওয়ার পরও ১০ মাসের এক স্তন্যপায়ী শিশুকে বিমানে উঠতে না দেওয়ার ঘটনায় কাতার এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কেরলের জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। বিমান সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক, পরিষেবায় চরম অবহেলা এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা হিসেবে চিহ্নিত করে আদালত ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারটি ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক। কোচি বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে তাদের ইতালিতে ফেরার কথা ছিল। যাত্রার আগে এয়ারলাইন্সের কর্মীরা তাদের সমস্ত নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেই বোর্ডিং পাস প্রদান করেছিলেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবে বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে পরিবারের দুই শিশুকে উঠতে বাধা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ১০ মাসের সেই দুধের শিশুটিও ছিল।

কোনো প্রকার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবারটি তীব্র মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হয়। বাধ্য হয়েই তারা বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামেন। মামলার দীর্ঘ শুনানিতে কমিশন স্পষ্ট জানায় যে, নথিপত্র যাচাইয়ের পর কোনো যাত্রীকেই কারণ ছাড়া ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত করা যায় না। বিশেষ করে একটি দুধের শিশুকে নিয়ে এমন আচরণ অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।

এই রায়ে কমিশন কাতার এয়ারওয়েজকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি মামলার আইনি খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে সেই টাকার ওপর সুদ কার্যকর হবে বলেও রায়ে উল্লেখ রয়েছে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতের জন্য এই রায় একটি বড় দৃষ্টান্ত। সঠিক নথি থাকা সত্ত্বেও একতরফা সিদ্ধান্তে যাত্রীদের ভোগান্তির দায় যে এয়ারলাইন্সগুলো এড়াতে পারবে না, সেটিই এই রায়ের মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো। বিমান সংস্থাদের যাত্রীসেবার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content