প্রতিনিধি 27 August 2026 , 6:07:22 প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। বৃহস্পতিবার সকালে মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নারী ভিকটিমদের ক্ষেত্রে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শ্বাসরোধের ফলে শারীরিক প্রক্রিয়ায় বীর্য বা মলমূত্র নির্গত হওয়া স্বাভাবিক, যা ভুলবশত অন্য কিছু হিসেবে গণ্য হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ডোম যে বীর্যের কথা বলেছিলেন তা মূলত মৃতদেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল। ঘটনার পর মুগ্ধ দাস দখিগঞ্জ শশ্মানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে পাহারাদার বিদ্যুৎ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিদ্যুৎ দাস জানিয়েছেন, মুগ্ধ দাস তার কাছে গিয়ে পানি চেয়েছিল এবং সিদ্ধার্থসহ চারজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল।
তদন্তের অন্য একটি দিক নিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, সিদ্ধার্থ দাসের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। জমি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সিদ্ধার্থের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে শোনা যাচ্ছে। এই আর্থিক বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। জমি কেনা ও অর্থের বণ্টন নিয়ে কোনো ক্ষোভ থেকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কমিশনার জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিলেন যে, মুগ্ধ দাস তার কাছে গিয়ে বলেন দাদা আমাকে পানি দাও, আমি ও সিদ্ধার্থ স্যারসহ ৪ জনকে হত্যা করেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নারী ভিকটিমদের ভ্যাজাইনাল সোয়াব নেয়া হয়েছিল।
সূত্র: মানবজমিন



















