প্রতিনিধি 16 September 2026 , 4:02:05 প্রিন্ট সংস্করণ

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে পাঠানোর জন্য ঢাকা মনোনয়ন দিলেও এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভারত তাতে এখনো অনুমোদন দেয়নি। এই বিলম্বিত প্রক্রিয়াটি দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপড়েনের সম্পর্কে নতুন এক জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কোনো দেশ তার মনোনীত প্রতিনিধির নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা অ্যাগ্রিমো নিতে বাধ্য। তবে কোনো দেশ যদি নির্দিষ্ট প্রার্থীকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তার কারণ ব্যাখ্যার কোনো বাধ্যবাধকতা তাদের ওপর থাকে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে দেশগুলো নীরবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যাতে প্রকাশ্যে সম্পর্কের কোনো নতুন অবনতি না ঘটে।

কূটনৈতিক মহলে আসাদ আলম সিয়াম একজন অভিজ্ঞ পেশাদার হিসেবে পরিচিত। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত বছর তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমান হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহর মেয়াদ শেষের পথে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তার জেনেভায় জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এই শূন্যপদ পূরণে নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের উপস্থিতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে ভারতের নীরবতা ও অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির প্রত্যাশা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই সম্ভাবনাকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। আগস্ট মাসে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর বাতিল হওয়া এবং পরবর্তীতে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ না করা দুই দেশের সম্পর্কের শীতলতার ইঙ্গিত দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বাড়তি উত্তেজনা। অথচ বিপরীত দিকে ভারতও গত এক মাসে তারেক রহমানকে দুটি আলাদা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানিয়েছিল, যার কোনোটিই সফল হয়নি।
এতসব রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি পর্যায়ে যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। গত সপ্তাহেই ঢাকায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে রেল যোগাযোগ ও সীমান্তপারের ট্রেন চলাচল নিয়ে ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সাত মাসে একাধিক কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ পুনরায় সক্রিয় হয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক দূরত্ব থাকলেও দুই সরকারই দৈনন্দিন সহযোগিতার কাঠামো সচল রাখতে চায়। এদিকে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিয়েছেন, যার পদমর্যাদাকে ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্কের গুরুত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ চীন ও পাকিস্তানের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়ায় নয়াদিল্লিতে তা ইতিবাচকভাবে দেখা হয়নি। যদিও তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্কের উন্নতির যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা পুরোনো রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি বর্তমান পরিস্থিতিরই প্রতিফলন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা জল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে কারিগরি বৈঠকের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় থাকলেও শীর্ষ পর্যায়ের এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা দুই দেশের সম্পর্কের অস্বস্তিকে আরও প্রকট করে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এরই মধ্যে টানাপড়েনের সম্পর্কে এই ইস্যু আরেকটি জটিলতা সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বলা হয়, এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই অনুমোদন পাওয়া যায়নি। চাকরির আরও তথ্য: তবে ভারতের অনুমোদন ছাড়া নয়াদিল্লিতে নতুন দায়িত্বে তার নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করতে পারবে না ঢাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি কোনো দেশ চাইলে এ বিষয়ে নীরবও থাকতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশির ভাগ দেশই পুরো প্রক্রিয়াটি নীরবে সম্পন্ন করে। চাকরির আরও তথ্য: সুতরাং কারও নিয়োগের অনুমোদন না দেয়া মানেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা নয়।
সূত্র: মানবজমিন



















