পরিবেশ-পর্যটন

নিরাময়ের পথে পৃথিবীর সুরক্ষা কবচ ওজোনস্তর

  প্রতিনিধি 16 September 2026 , 11:09:06 প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীর প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করে ওজোনস্তর। এই স্তরের ক্ষয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস পালিত হয়। ১৯৮৭ সালের এই দিনে ওজোনস্তর ধ্বংসকারী উপাদানগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ সই করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে ওজোন গহ্বরটি গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ছোট আকারের ছিল। ১৯৯২ সালে বিজ্ঞানীদের নজরে আসা ওজোনস্তরের মারাত্মক ক্ষয়চিত্রের পর এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ওজোন গহ্বর ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের গড়ের চেয়ে ছোট লক্ষ্য করা গেছে, যা স্তরটি সেরে ওঠার ইঙ্গিত দেয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, ২০০০ সাল থেকে ওজোনস্তর আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ডব্লিউএমওর প্রত্যাশা অনুযায়ী, সারা বিশ্বের গড় ওজোনস্তর ২০৪০ সালের মধ্যেই ১৯৮০ সালের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভিন্নতা রয়েছে—আর্কটিক অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া ২০৪৫ সাল এবং অ্যান্টার্কটিকায় ২০৬৬ সাল পর্যন্ত সময় নিতে পারে। ২০০৫ সাল থেকে স্যাটেলাইট ডেটা ও মডেল সিমুলেশনে ওজোনস্তরের এই পুনরুদ্ধারের প্রমাণ স্পষ্ট হয়েছে।

বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে থাকা ওজোন গ্যাসের এই পাতলা স্তরটি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে প্রাণিকুলকে রক্ষা করে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বায়ুমণ্ডলের একটি মাত্র ক্লোরিন পরমাণু এক লাখের বেশি ওজোন অণু ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। অতীতে ফ্রিজ বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি) ওজোনস্তরের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। তবে মন্ট্রিল প্রটোকলের সফলতায় এখন বায়ুমণ্ডলে নিষিদ্ধ এসব উপাদানের উপস্থিতি বেশ কমে এসেছে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো এই অগ্রগতিকে এক বিশাল পরিবেশগত সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে পুনরুদ্ধারের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। শিল্পকারখানায় কাঁচামাল বা ফিডস্টক হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক থেকে অপ্রত্যাশিত নির্গমন ওজোনস্তর স্বাভাবিক হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের নির্গমনের কারণে মধ্য অক্ষাংশে ওজোনস্তর স্বাভাবিক হতে প্রায় ৭ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে।

বিশেষ করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিএফসি-১১ এবং মাঝেমধ্যে হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (এইচএফসি)-২৩ গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বায়ুমণ্ডলীয় পর্যবেক্ষণ জরুরি। উদ্বেগের বিষয় হলো, ওজোনস্তর পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সক্রিয় স্টেশনের সংখ্যা ২০০০ সালের শুরুর দিকের ১৩০টি থেকে কমে বর্তমানে ১১০টিতে দাঁড়িয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানেই স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণ বৃদ্ধির ফলে ত্বকের ক্যানসারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ওজোনস্তর রক্ষায় চলমান আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘গ্লোবাল অ্যাকশন ফর এ কুলার প্ল্যানেট’ বা পৃথিবীকে শীতল রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ, যা ওজোনস্তর পুনরুদ্ধারের চলমান প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওজোনস্তরের গুরুত্ব, এটির ক্ষয়জনিত ঝুঁকি ও পরিবেশ রক্ষায় করণীয় বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরাই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঐতিহাসিক এ উদ্যোগের কথা স্মরণে রেখে ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৬ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আজ বুধবার আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওজোনস্তর পুনরুদ্ধারে দারুণ কিছু সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৯২ সালে ওজোনস্তর ক্ষয়ের মারাত্মক চিত্র বিজ্ঞানীদের সামনে চলে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পর থেকে যতবার ওজোন গহ্বর মাপা হয়েছে, তার মধ্যে গত বছরের গহ্বরটি ছিল তালিকায় চতুর্থ বা পঞ্চম ক্ষুদ্রতম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অর্থ, ওজোনস্তরের ক্ষত দিন দিন সেরে উঠছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বছরভিত্তিক এ পরিবর্তনের পেছনে আবহাওয়া বড় ভূমিকা পালন করছে বলে ধারণা করা হয়।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content