প্রতিনিধি 30 August 2026 , 9:30:51 প্রিন্ট সংস্করণ

কাতারের ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারের ফ্যালকন বা বাজপাখির দোকানে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি শিকারের মৌসুম ঘোষণার পর থেকেই বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাজপাখির বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কাতার ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রেতারা শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই পাখি সংগ্রহ করছেন। অনেকে সশরীরে দোকানে এসে কেনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অর্ডার দিচ্ছেন, আর ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে অন্য দেশেও পাখি পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাজারে বিভিন্ন জাতের বাজপাখির দাম তাদের ধরন ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হচ্ছে। শাহিন ফ্যালকনের দাম ৩০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয় এবং গারফ্যালকনের দাম প্রায় ২০ হাজার রিয়াল। এছাড়া গার-শাহিন হাইব্রিড ফ্যালকনের দাম অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু। সাশ্রয়ী দামের মধ্যে ওয়াকরি বা ল্যানার ফ্যালকন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার রিয়ালের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সুদানি ওয়াকরি ফ্যালকনের দাম প্রায় ২ হাজার রিয়াল, ব্রিটিশ গারমুশা ফ্যালকন ৪ হাজার রিয়াল এবং স্প্যানিশ গারফ্যালকন ১০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হচ্ছে। বিশেষ জাতের ও উন্নত মানের বাজপাখির দাম অবশ্য আরও অনেক বেশি।
বাজপাখির পাশাপাশি শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জামের চাহিদাও তুঙ্গে। দোকানের তাকে হাতমোজা, হুড, বহন করার বাক্স, পাখির স্ট্যান্ড, ছুরি, জাল, শিকারের পোশাক এবং বাইনোকুলার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানের হাতমোজা ৫০ রিয়াল থেকে শুরু হলেও আমদানিকৃত ডাচ মডেলের হাতমোজার দাম ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হুড ৩০ থেকে ১৫০ রিয়াল, বহন করার বাক্স ৬০ থেকে ৭০ রিয়াল এবং জার্মান প্রযুক্তির উন্নত মানের বাইনোকুলারের দাম ২ হাজার ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন কেনা বাজপাখিকে শিকারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সাধারণত ১৫ দিন বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। নতুন মালিকের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং শিকারের সময় সঠিক পারফরম্যান্সের জন্য এই প্রশিক্ষণ জরুরি। তবে বাজারে আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিও পাওয়া যাচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে বাজপাখির নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে বাজারের এই চাঙ্গা ভাব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: গালফ বাংলা



















