প্রতিনিধি 17 September 2026 , 1:48:06 প্রিন্ট সংস্করণ

নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ও অরাজকতা প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনার পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই কড়া বার্তা দেয়া হয়। এখন থেকে কোনো এলাকায় মিছিল বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই কড়া নজরদারির অংশ হিসেবে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় প্রশাসনিক কারণে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকে ডিএমপি সদর দপ্তরে ক্লোজ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। গত শুক্রবার গুলশানে নিষিদ্ধ দলের মিছিল ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। ঐদিন মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার সচিবালয়ে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মিছিলটি সম্পর্কে পুলিশের ধারণা ছিল, তবে জুমার নামাজের সময় মানুষ জড়ো হওয়ায় তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেয়া চ্যালেঞ্জিং ছিল। এছাড়া গাজীপুরের পূবাইল, চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকাতেও ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমান্ডের নির্দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনটি নাশকতার পরিকল্পনা করছে এবং বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মিছিল করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ নতুন কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেয়ার সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে এবার প্রিভেন্টিভ বা আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে কঠোর ব্লক চেক, স্পটভিত্তিক জিরো-গ্যাপ সিকিউরিটি ব্যবস্থা এবং আবাসিক হোটেলগুলোর অতিথি তালিকার ওপর কড়া নজরদারি। বহিরাগতদের মুভমেন্ট ও সম্ভাব্য অপতৎপরতা রুখতে প্রতিটি হোটেলের অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। যে কোনো এলাকায় অরাজকতার চেষ্টা হলে শুধু অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, বরং ওই এলাকার পুলিশ আগে থেকে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল তাও মূল্যায়ন করা হবে। সাদা পোশাকে বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্য এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (আইএডি) গোয়েন্দারা সম্ভাব্য নাশকতাকারীদের তালিকা তৈরি করছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে বৈঠক করে মিছিল বা বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করার পূর্ণ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে থানা পুলিশকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং চট্টগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র চলছে এবং পুলিশের গাফিলতি বা গোয়েন্দা ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এখন থেকে সব ধরনের অরাজকতা কঠোর হাতে দমন করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশি দুর্বলতায় তৎপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল, ওসি ক্লোজড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ঢাকার মতো জায়গায় একাধিক খণ্ড খণ্ড মিছিল তারা ইতিমধ্যে করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকার বাহিরেও বেশ কিছু মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গুলশানের বড় মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো চাপে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই প্রতিটি থানায় রাত এবং দিনে টহল বাড়াতে হবে।
সূত্র: মানবজমিন



















