প্রতিনিধি 24 August 2026 , 9:31:28 প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই অবনতি হয়েছে। বিপরীতে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টি সূচকে কিছুটা অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। অর্থনীতি ও সুশাসন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থনীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে পায়নি। প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে এবং রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতি ও তারল্য সংকটের ওপর।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু ছয় মাসের মূল্যায়নে এ দুই ক্ষেত্রেই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের সরকারের কাছ থেকে বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে, যেখানে টাকা সংকট, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এসব সামলে অর্থনীতিকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে আশানুরূপ কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
সুশাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব চিত্র এখনো সন্তোষজনক নয়। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা বলা হলেও উচ্চপদে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদায়নের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও মব সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।
গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রণীত আইন নিয়েও প্রশ্ন তুলে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এতে নানা ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। বিশেষ করে আইন ভঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়েই অনুসন্ধান করানোর সুযোগ থাকায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। এছাড়া সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কী ধরনের সংকটের মুখে পড়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত দলিল তৈরি না হওয়ায় তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে সরকারের কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন তিনি। এর মধ্যে এমপিদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। পরিশেষে তিনি বলেন, অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর জন্য সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















