চট্টগ্রাম

মেধার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিপ্রত্যাশী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী

  প্রতিনিধি 17 September 2026 , 6:20:32 প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী মিজান মিয়া জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। শৈশবে মা এবং কৈশোরে বাবাকে হারানো মিজান অভাবের সংসার ও নানা প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়া মিজান ২০২৩ সালে স্নাতক এবং ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তির ওপর ভর করে তিনি তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন।

বর্তমানে মিজান সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে স্ত্রী হাবিবা বেগমকে নিয়ে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। মিজানের বাবা খোরশেদ মিয়া পেশায় রিকশাচালক ছিলেন, যিনি মিজান একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় মারা যান। বর্তমানে সংসারের চাকা সচল রাখতে হাবিবা বেগম একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। মাসে আট হাজার টাকা বেতনে কোনোমতে তাঁদের দিন কাটলেও স্ত্রীর অসুস্থতা মিজানের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশায় গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন মিজান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। আবেদনে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক সংকট এবং শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি। মিজান বলেন, বর্তমানে তিনি পুরোপুরি স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি ভবিষ্যতে চাকরি চালিয়ে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি একটি চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

মিজানের এই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন। তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তিহীন হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করা মিজানের নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে এবং তাঁরা এ বিষয়ে সুপারিশ করবেন। স্ত্রীর হাবিবা বেগমও স্বামীর চাকরির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন। চাকরির আরও তথ্য: এখন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতে একটি স্থায়ী চাকরি চান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাহলে তাঁরা একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content