প্রতিনিধি 17 September 2026 , 1:17:52 প্রিন্ট সংস্করণ

কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ‘কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স’ (কেএসসি)। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় সংঘটিত নির্যাতন, বেআইনি আটক ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী থাচি আদালতের রায়ের সময় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেও শুরু থেকেই তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৮-৯৯ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কমান্ডার হিসেবে থাচি নিজস্ব প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সার্বীয় বাহিনীর সহযোগীদের ওপর চালানো নিপীড়নে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ সময় অন্তত ৯৬ জন বেসামরিক নাগরিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আলোচিত এই মামলায় থাচির পাশাপাশি কেএলএ-এর আরও তিন কমান্ডারকে সাজা দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে ইয়াকুপ ক্রাসনিকি ২৫ বছর, কাদ্রি ভেসেলি ১৮ বছর ও রেঝেপ সেলিমি ১৩ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ কিছু অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের খালাসও দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
এই রায়কে কেন্দ্র করে কসোভো ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রায়ের পর প্রিস্টিনায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লাউক কোনজুফকা রায়টিকে কসোভোর জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে সার্বিয়া এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। সার্বিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইভিকা দাচিচ বলেন, ‘এই রায় প্রমাণ করে যে কেএলএ একটি অপরাধী সংগঠন ছিল। নিহত সার্বিয়ানদের গণকবরের ওপর কোনো দেশ গড়ে উঠতে পারে না।’
উল্লেখ্য, হাশিম থাচি কসোভোর স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করে হেগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে সার্বিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তিনি যুদ্ধাপরাধ, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিচারক চার্লস স্মিথ রায়টি পড়ার সময় ৫৮ বছর বয়সী হাশিমকে আদালতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বিচারকেরা উল্লেখ করেন, প্রসিকিউশন পক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য ছয়টি অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করতে না পারায় তাঁদের সেসব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কসোভোর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলবেনীয় জনগোষ্ঠী থাচি ও কেএলএ-কে স্বাধীনতার অন্যতম বীর হিসেবে গণ্য করে।
সূত্র: প্রথম আলো


















