প্রতিনিধি 31 August 2026 , 11:35:24 প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে চলমান সংকটের ভয়াবহতা নিয়ে নতুন একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’ শিরোনামের এই ডকুমেন্টারিতে গোপন নথি, এক্সক্লুসিভ ভিডিও এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির গৃহযুদ্ধের মধ্যে সাধারণ রোহিঙ্গাদের চরম নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নাগরিক সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওতে উঠে এসেছে কীভাবে এই জাতিগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে।

২০২৩ সালে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকে রাখাইনের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারহীন এই অঞ্চলে গত দেড় বছরে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তথ্যচিত্রটিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধনের সময়কার বর্বরতার মতোই বর্তমানে উভয় পক্ষ থেকেই রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা সেতেরা বেগম জানান, বিদ্রোহীরা গ্রামে ঢুকে পরিখা খনন ও চেকপোস্ট স্থাপন করায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অনেক সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ১৪ বছর বয়সী আয়শা নামের এক কিশোরীও তাদের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে।
‘মিয়ানমার উইটনেস’-এর ফরেনসিক গবেষকদের বিশ্লেষণ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যে দেখা গেছে, রাখাইন রাজ্য দখলের পর আরাকান আর্মি এই মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এছাড়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে মানবপাচারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও উঠেছে। এতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও নারীদের জোরপূর্বক নৌকায় তুলে অন্য দেশে পাচার এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার মর্মান্তিক তথ্য উঠে এসেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে আরাকান আর্মির কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো মন্তব্য বা সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এর আগে তারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তারা ‘নৃশংসতা’ চালাচ্ছে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দেয়নি।
বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতের কোনো আলোর দিশা না পেয়ে তরুণ প্রজন্ম যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তাদের চুপ করে বসে থাকার আশা করা যায় না। আল জাজিরার ‘মিয়ানমার এক্সপোজড’ প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে তৈরি এই ডকুমেন্টারিটি ২০২১ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী মিয়ানমারের অনেক অজানা ও লুকিয়ে থাকা সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: গালফ বাংলা


















