আন্তর্জাতিক

ইরানের কুহেস্তাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা: চারজনের মৃত্যু ও আইনি পদক্ষেপের আহ্বান

  প্রতিনিধি 7 September 2026 , 11:11:44 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হরমোজগান গভর্নরের কার্যালয় নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন চার বছর বয়সী আমির আলী কারিমি, ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মালাহি, ৪৩ বছর বয়সী কোলসুম মালাহি এবং ৪৩ বছর বয়সী জারখাতুন তাহেরি।

স্থানীয় সূত্র ও সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এবং সেই ভবনটিই ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিও, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় কুহেস্তাকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, উপকূলের কাছে অবস্থিত একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, এই হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, হামলায় এজিএম-৮৪কে এসএলএএম-ইআর (AGM-84K SLAM-ER) ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো সংস্করণ ব্যবহৃত হয়েছে। বোয়িংয়ের তথ্যমতে, এটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য একটি নির্ভুল নিশানার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার পর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নারী ও শিশুদের জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, হামলায় তিনটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার একটি ভবনের ছাদ ভেদ করে মাটিতে প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত তৈরি করেছে। হামলার শিকার ভবনটির মালিক আলী মালাহি জানান, সেখানে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এবং উপস্থিত সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আহত তরুণ জানান, ঘটনার সময় আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিলেন এবং এরপরই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘটনাস্থলে থাকা এক নারী দাবি করেন, সেখানে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, বরং বাড়িটিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতালের ফুটেজে আহত শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এই ভয়াবহ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নথিভুক্ত করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটি হামলার স্থান ও আহত শিশুদের ছবি প্রকাশ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের মতে, এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর হামলা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশের কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content