প্রতিনিধি 18 September 2026 , 9:05:19 প্রিন্ট সংস্করণ

শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন যে, জামায়াতে ইসলামী সরাসরি ক্ষমা না চাইলেও পরোক্ষভাবে একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের রাজনৈতিক দর্শন ও তার লেখা বইয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া একটি ভ্রান্ত নীতি বা ফ্যালাসি। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টিই সঠিক পথ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। তার মতে, ব্যারিস্টার রাজ্জাকের এই বইটি কোনো গবেষণাধর্মী কাজ বা সাহিত্য নয়, বরং একজন মানুষের জীবন দর্শনের জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাদের সংকীর্ণতা ও ব্যর্থতার পরিচায়ক। তিনি জানান, বইটিতে বিএনপি সম্পর্কেও সমালোচনা রয়েছে যা সমাজ পরিবর্তনের স্বার্থে গ্রহণ করা প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার বইয়ে একাত্তরের অপরাধের জন্য দলটির পক্ষ থেকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজ্জাক সাহেব ২০১৬ সালে যে স্টেটমেন্টের খসড়া তৈরি করেছিলেন, তা সেই সময়ে গৃহীত হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ ও এর পরবর্তী সংশোধনীগুলোর প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে এই আইন পার্লামেন্টে উত্থাপনের সময় বিশেষ কমিটিতে একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়। আইনের সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের (রাজাকার, আল-বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী) যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সে সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল। আইনমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করা সম্ভব নয় বলে সরকার এতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত আইনটিতে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’ ও ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, আইন পাসের সময় জামায়াতের কোনো সদস্য পার্লামেন্টে এর বিরোধিতা করেননি বা ‘না’ ভোট দেননি। এই ঘটনার মাধ্যমেই দলটি পরোক্ষভাবে একাত্তরের সেই ঐতিহাসিক অবস্থান মেনে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য যে, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (UPL)। অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আলী রীয়াজ, Right to Freedom-এর প্রেসিডেন্ট জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ে ঠিক এইভাবে বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি রাজ্জাক সাহেবের ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা, দিস ইজ দ্য প্রোস ফর জুরিস্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন দর্শন যেভাবে ছিল— এই বইটা তার একটা রিফ্লেকশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এখানে জামায়াতের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকে জামায়াতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপে আছেন— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা।
সূত্র: মানবজমিন



















