সারাদেশ

নতুন তথ্য: জুতা পালিশের ফাঁকে ২৩ বছর ধরে পত্রিকা

  প্রতিনিধি 18 September 2026 , 2:25:20 প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা সদরের ভবানীগঞ্জ বাজারের ফুটপাতে প্রতিদিন একটি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। পেশায় চর্মকার অনন্ত চন্দ্র দাস (৪১) জুতা পালিশের কাজের ফাঁকে নিমগ্ন হয়ে পত্রিকা পড়ছেন। প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি এই অভ্যাসটি নিয়মিত বজায় রেখেছেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয়, যেখানে তিনি জানান যে কাজের ফাঁকে অবসর পেলেই তিনি পত্রিকা হাতে তুলে নেন। কোনো প্রতিবেদন বা খবর আকর্ষণীয় মনে হলে তা তিনি পরে নিরিবিলিতে পড়ার জন্য আলাদা করে রাখেন।

অনন্তর পত্রিকা পড়ার এই নেশা শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেই সময় স্থানীয় এলাকায় চরমপন্থীদের তৎপরতা ও সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটত, যার বিস্তারিত জানতে তিনি প্রথম পত্রিকা কেনা শুরু করেন। তখন দুই টাকা মূল্যের স্থানীয় পত্রিকা দিয়ে শুরু করলেও, এখন তা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালে দোকানে এসেই তিনি হকারের কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করেন। কাজের চাপ কম থাকলে তখনই তিনি গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো পড়ে ফেলেন। তবে লোকলজ্জার ভয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় পত্রিকাটি ব্যাগে ভরে নিয়ে যান।

দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার লড়াইয়ে তিনি প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করেন। সংসারের সব খরচ মিটিয়ে মাসে ১০০ টাকা পত্রিকা কেনার জন্য আলাদা করে রাখেন। পেশাগত জীবনে তিনি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছেন, কিন্তু খবরের প্রতি আগ্রহ কমেনি। তাঁর কথায়, পত্রিকা পড়াটা নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ছাড়া তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। এমনকি করোনার কঠিন সময়ে পত্রিকা পাওয়া ও ব্যবসা বন্ধ থাকা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তিনি মনে করেন, কোনো পেশা বা শিক্ষা পত্রিকা পড়ার জন্য বাধা নয়, বরং প্রবল আগ্রহই যথেষ্ট।

অনন্তের এই অভ্যাসের একটি ইতিবাচক দিক হলো, তিনি দোকানের খদ্দেরদেরও পড়ার সুযোগ করে দেন। জুতা পালিশের সময় খদ্দেরের হাতে পত্রিকা ধরিয়ে দিয়ে তিনি তাদের সময় কাটানোর সুযোগ করে দেন, যা অনেক ক্ষেত্রে খদ্দের ধরে রাখতেও সাহায্য করে। স্থানীয় পত্রিকা বিক্রেতা সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু জানান, অনন্তর মতো নিয়মিত ক্রেতা তিনি খুব কমই পেয়েছেন। পত্রিকা পৌঁছাতে দেরি হলেও অনন্ত নিজেই দোকানে এসে তা নিয়ে যান।

ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউনাল করিম দীর্ঘদিন ধরে অনন্তকে পথের ধারে পত্রিকা পড়তে দেখে মুগ্ধ। অন্যদিকে, গণিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সোবহান মণ্ডলের মতে, অনন্ত তাঁর ওয়ার্ডের একজন নিবেদিতপ্রাণ বাসিন্দা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচিত তাঁর পাশে দাঁড়ানো। বর্তমানে অনন্ত অন্যের জায়গায় ছোট একটি কুঁড়েঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। সরকারি ঘর পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেও এখনো সফল হননি তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নীরবে পড়তে থাকলেন পত্রিকার বিভিন্ন লেখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় পত্রিকায় এসব ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাতে পত্রিকা দেখলে কেউ ঠাট্টা করতে পারে, এই আশঙ্কায় এমনটি করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনন্তর ভাষায়, ‘পেপার পড়া আমার নেশা ও অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: করোনা মহামারিতে তাঁর খুব কষ্ট হয়েছিল।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content