প্রতিনিধি 13 September 2026 , 6:25:10 প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমস ফুটবলে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। আসরের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে জাপান থেকে মুঠোফোনে নিজেদের প্রস্তুতি ও লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। এবারের আসরে বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হবে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের।

বাটলারের মতে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনই কোনো অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ করতে চাই না। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলে দেখাতে চাই যে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ফুটবলে কতটা উন্নতি করেছে। এই লড়াইয়ের মানসিকতাই আমাদের প্রধান শক্তি।’ ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো গেমসে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলটির সামনে এবার অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এশিয়ান পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাফ ফুটবলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বাটলার জানান, এশিয়ান কাপে সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব-২০ উভয় পর্যায়ে বাংলাদেশের জায়গা করে নেওয়াটা একটি বড় অর্জন। তার দাবি, তিনি মেয়েদের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন, যার ফলে তারা এখন যেকোনো বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়ার বিশ্বাস পায়।
চীনে ১০ দিনের ক্যাম্প সম্পর্কে কোচ বলেন, এশিয়ান গেমসের আগে ১০ দিনের প্রস্তুতি সময়টা পর্যাপ্ত নয়। তবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সহযোগিতা ক্যাম্পটি সফল করতে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যতে নারী ফুটবলের উন্নতির জন্য পর্যাপ্ত আবাসন, আধুনিক প্রশিক্ষণসুবিধা এবং নিয়মিত খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিপক্ষের কৌশল নিয়ে বাটলার জানান, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা অনেক উঁচু মানের এবং অনেকেই বিদেশের লিগে নিয়মিত খেলে। বাংলাদেশের সেই মানের সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও দলীয় সংগঠন ও রক্ষণাত্মক কৌশলে তাদের খেলার জায়গা কমিয়ে আনাই হবে মূল পরিকল্পনা। তবে মিয়ানমার বা অন্য কোনো দল নিয়ে তিনি আলাদা কোনো সহজ সমীকরণ দেখছেন না, বরং প্রতিটি দলকে সমান সম্মান দিয়ে মাঠে নামার কথা বলেছেন।
নারী ফুটবলের উন্নয়নের পথ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সাফে দুবার ফাইনালে ওঠা ও একবার শিরোপা জয়, অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনাল খেলা—এসবই আমাদের অগ্রগতির মাপকাঠি। তবে কোরিয়া বা জাপানের পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের ৫০ বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা উন্নত হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়বে।’
অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপে খেলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কোচ জানান, তিনি ফলাফলের চেয়ে পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আগে মেয়েরা কেবল বল সামনে ঠেলে দৌড়ানোর ফুটবল খেলত, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির প্রয়োজনে তারা খেলার ধরন বদলাতে পারে, যা দলের অন্যতম বড় উন্নতি। তার মতে, বর্তমানে ঋতুপর্ণা ছাড়া অন্য কোনো খেলোয়াড় নিয়মিত বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ না পাওয়ায় ঘরোয়া ব্যবস্থার মান বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বাংলাদেশ যে এগোচ্ছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার খেলা এশিয়ান কাপের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে দেখেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাটলার: আমি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে শুধু ফলাফলের দিকে তাকাইনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই অভিজ্ঞতা তাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাটলার: দুই কোরিয়ার বিপক্ষে একইভাবে খেলতে পারব না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই আমাদের হাতে যে খেলোয়াড় ও যে সামর্থ্য আছে, সেটার ওপর ভিত্তি করেই পরিকল্পনা করতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো



















