নিজস্ব প্রতিনিধি: ১২ জুন ২০২৬ , ৮:৫২:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

মাদক কারবারিদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কারাগারকেও তারা মাদকের নিরাপদ আস্তানা বানানোর অপচেষ্টায় নেমেছে। তবে মাগুরা জেলা কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে ভেস্তে গেছে সেই পরিকল্পনা। বন্দি স্ত্রীকে গাঁজা পৌঁছে দিতে এসে জেলগেটেই হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক স্বামী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মাগুরা জেলা কারাগারের আরপি গেটে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত দবির মোল্যা সদর উপজেলার জুঁইতাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী তন্বী খাতুন মাদক-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারা সূত্র জানায়, স্ত্রীকে দেখার অজুহাতে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করেন দবির মোল্যা। কিন্তু তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। জিন্স প্যান্টের পকেটে প্রায় ৫০ গ্রাম গাঁজা লুকিয়ে তিনি কারাগারের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের সতর্ক নজরদারি ও তল্লাশিতে সেই কৌশল ধরা পড়ে যায়। উদ্ধার করা হয় গাঁজার প্যাকেট, আর মুহূর্তেই ভেস্তে যায় কারাগারের ভেতরে মাদক সরবরাহের পরিকল্পনা। ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলে দবির মোল্যা নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে জানা যায়। আদালত তাকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মহিউদ্দিন হায়দার জানান, কারাগারে কোনোভাবেই মাদক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাত্র দুই দিন আগে মাদক মামলায় কারাগারে যান তন্বী খাতুন। এরপরও কারাগারের ভেতরে মাদক পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা প্রমাণ করে, মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দুঃসাহস কতটা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি না থাকলে কারাগারের ভেতরেও মাদকের বিস্তার ঘটানোর অপচেষ্টা সফল হতে পারত। ঘটনাটি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—মাদক ব্যবসায়ীরা শুধু সমাজ নয়, রাষ্ট্রের সংশোধনাগার ব্যবস্থাকেও কলুষিত করার চেষ্টা করছে। তবে মাগুরা জেলা কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের তৎপরতায় সেই অপচেষ্টা গেটেই থেমে গেছে। কারাগারকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।



















