জাতীয়

প্রেক্ষাপট: বিএনপি সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন

  প্রতিনিধি 12 September 2026 , 6:32:18 প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি সরকার। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। সেখান থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র সাত মাসে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু মজুত বাড়ানোই নয়, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিতেও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে দেশের খাদ্য গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন, যা বর্তমানে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে নিয়ে যাওয়া, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ডেও পরিবর্তন এনেছে বর্তমান সরকার। এতদিন ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলেই তা নিরাপদ সীমা হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই নিরাপদ মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। মোট মজুতের মধ্যে চাল ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন এবং ধান ৩৪ হাজার ৭০ মেট্রিক টন। এর বাইরে ফ্লোটিং মজুত হিসেবে ৬৮ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন গম রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তির সময় দেশে চাল ও গম মিলিয়ে মোট মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। সেই তুলনায় বর্তমানে মজুত বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন। এছাড়া ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমান মজুত প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন বেশি, যা দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য দেশে এসেছে।

বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমেও সাফল্য এসেছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫২৩ মেট্রিক টন গম রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সক্ষম। ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সচল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, জাতীয় চাহিদা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়লেও বিকল্প হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চাল বিতরণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এছাড়া আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে সরকার আশাবাদী।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন জানান, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হচ্ছে, ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান মজুত পরিস্থিতি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎপাদন, সংগ্রহ ও আমদানির ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। নিয়মিত মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে বাজারে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়।

সব মিলিয়ে, বর্তমান সরকারের খাদ্যবান্ধব নীতির কারণে দেশে খাদ্য নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার তা বাড়িয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টনকে নিরাপদ সীমা বলে স্থির করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তির সময়, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেশে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সে সময় সরকারি মজুতের মধ্যে চাল ছিল ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টন ও গম ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার টন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাদ্যশস্যের মজুতের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একই সময়ের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content