আন্তর্জাতিক

জার্মানিতে ইসরায়েলি ও আরব সেনাপ্রধানদের গোপন বৈঠক

  প্রতিনিধি 22 September 2026 , 10:04:36 প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই জার্মানির একটি নির্জন স্কি রিসোর্টে অত্যন্ত গোপনীয়তায় মিলিত হয়েছেন ইসরায়েল ও সাতটি আরব দেশের সেনাপ্রধানরা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামির উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেন্টকম। এতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং মিশরের সামরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার সূত্রে অ্যাক্সিওস এই বৈঠকের খবর প্রকাশ করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক কার্যক্রম শুরুর পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে বিভিন্ন ফ্রন্টে আইডিএফের চলমান অভিযান সম্পর্কে আরব দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বিস্তারিত অবহিত করেন জেনারেল ইয়াল জামির। অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশও রয়েছে, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এমনকি ইসরায়েলের রাজনীতির একাংশ কাতারকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবেও বিবেচনা করে থাকে।

বৈঠকে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানের হামলায় এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করবে না। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ওয়াশিংটনের নেওয়া বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা ইরান নিয়ন্ত্রিত জলসীমার কাছাকাছি অবস্থিত।

বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগগুলো চিহ্নিত করা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে বিশেষ কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় বাব আল-মানদেব প্রণালিতে সৌদি আরবকে ইসরায়েলি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম। তবে এই আলোচনায় ইসরায়েলের সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সৌদি আরবে নিয়মিত হামলার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জার্মানিতে আয়োজিত একটি নির্ধারিত সম্মেলনের ফাঁকে এই শীর্ষ সামরিক নেতাদের সাথে নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বৈঠক বা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রদান করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস বৈঠকটির বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগেও এসব দেশের কর্মকর্তারা একই ধরনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরান জলপথটি অবরোধ এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content