প্রতিনিধি 22 September 2026 , 5:56:39 প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ। ট্রাম্পের প্রশাসন এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর তারা আইনি লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর শনিবারই তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস ভবনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে সোমবার ওয়াশিংটনের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা দায়ের করে প্রতিষ্ঠান তিনটি। তারা আদালতের কাছে এই নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকার কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই তাদের প্রতিবেদকদের অনুমতিপত্র বাতিল করেছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার তাগিদে তারা এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের দাবি, কী বিষয়ে সংবাদ প্রচার করা হবে তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার সরকারের নেই। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো সংবাদের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে সরকার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারে না।
এদিকে মামলার খবর জানাজানি হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘তৃতীয় শ্রেণির ভাঁড়’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও তিনি তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ‘মনগড়া ও মিথ্যা’ তথ্য প্রচার করে এবং অজ্ঞাত সূত্র ব্যবহার করে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করছে। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন যে, তার প্রশাসন এই মামলার বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করবে। এমনকি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আরও কিছু সংবাদমাধ্যমকে তিনি একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে পারেন।
প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি যৌথভাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলের কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। প্রেস পুল হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কাভার করার সময় খরচ কমাতে তথ্য ও ফুটেজ ভাগাভাগি করে। সোমবার থেকেই তারা এই দায়িত্ব পালনে বিরত থাকছে। বর্তমানে এই টেলিভিশন পুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফক্স নিউজের ব্যুরো প্রধান ব্রায়ান বুটন জানিয়েছেন, এখন থেকে তারা প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কভারেজে অংশ নেবেন না।
সিএনএনকে হোয়াইট হাউস পুলের দায়িত্ব পালন থেকে বাধা দেওয়ার ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর ফলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্পের সফরকালে সিএনএনকে তাদের স্বাভাবিক কাজের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বেসমেন্টে সিএনএন-এর জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আসনের বুথটি এদিন বন্ধ ও ফাঁকা দেখা যায়। সিএনএন তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে। একইসঙ্গে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টও ট্রাম্পের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্র অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার না করার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করেছিল যে তারা প্রেস পুলের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নিজেদের হাতে নিচ্ছে, যা গত এক শতাব্দী ধরে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা করে আসছিল। এর আগেও এপি’র সাংবাদিকদের ওভাল অফিস বা এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বর্তমান প্রশাসন, যার বিরুদ্ধে এপি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ওবামা প্রশাসনের সময় ২০০৯ সালে ফক্স নিউজকে একটি সাক্ষাৎকারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, অন্যান্য নেটওয়ার্কের প্রতিবাদের মুখে তা কার্যকর হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের কারণ না দেখিয়েই দীর্ঘদিনের নেতিবাচক সাংবাদিকতার অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে দাবি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ভুয়া খবরের লোকজন ও সংবাদমাধ্যমগুলো, যারা শুধু নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং অজ্ঞাত ‘সূত্র’ ব্যবহার করে মিথ্যা ও মানহানিকর খবর প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে, তাদেরকে বিশ্বের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর কোনো বিকল্প পুলও গঠন করা হবে না বলে ই-মেইলে জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভেতরের পর্দা ও মনিটরগুলোও বন্ধ ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পরিবর্তে রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেল ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’কে ট্রাম্পের সফরে ‘সেকেন্ডারি’ বা বিকল্প দলের মর্যাদা দেয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমও যৌথভাবে পরিচালিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান কাভারে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোমবার পরে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ট্রাম্পের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামদানি বলেন, আমি প্রেসিডেন্টকে বলেছি, আমরা এখানে লনে সংবাদমাধ্যমের সব সদস্যকে রাখব।
সূত্র: মানবজমিন



















