অন্যান্য

উপনিবেশবাদ: ইতিহাস, তত্ত্ব ও বৈশ্বিক প্রভাবের রূপরেখা

  প্রতিনিধি 16 September 2026 , 6:33:54 প্রিন্ট সংস্করণ

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতির মূলে রয়েছে দীর্ঘ ৫০০ বছরের শোষণের ইতিহাস। ২০০১ সালের ডারবান ডিক্লেয়ারেশনের ভাষ্যমতে, ‘উপনিবেশবাদ বর্ণবাদ, জাতিগত বৈষম্য, জেনোফোবিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অসহিষ্ণুতার জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ ঔপনিবেশিকতার শিকার হয়েছে এবং আজও এর ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি।’

রাজনীতি সচেতন মহলে উপনিবেশবাদ বা ‘কলোনিয়ালিজম’ শব্দটি বহুল পরিচিত। এর উৎপত্তিতে ল্যাটিন ভাষার ‘কোলেরে’ (colere) এবং ‘কলোনিয়া’ (colonia) শব্দ দুটির বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শব্দটি ইংরেজি অভিধানে জায়গা করে নেয়। এর মূল অর্থ হলো—কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য কোনো অঞ্চলের মানুষের ওপর বলপূর্বক বা প্ররোচনার মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং শাসনকাজ চালানো।

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় কয়েকজন চিন্তাবিদ গুরুত্বপূর্ণ মত দিয়েছেন

  1. এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ, ‘কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম’, পৃষ্ঠা ৮।
  2. মিশেল ডব্লিউ ডয়েল, ‘এম্পায়ারস’, পৃষ্ঠা ৪৫।
  3. নিয়্যাল ফার্গুসন, ‘এম্পায়ার: হাউ ব্রিটেন মেইড দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড’, পৃষ্ঠা ২৫।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ উপনিবেশবাদকে সাম্রাজ্যবাদের একটি ফলপ্রসূ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন, যেখানে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র দূরবর্তী অঞ্চলের ওপর আধিপত্য কায়েম করে। অন্যদিকে, ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ১৯১৭ সালে পুঁজিবাদী তত্ত্বের আলোকে সাম্রাজ্যবাদকে পুঁজিবাদের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার অন্যতম সহজাত উপাদান হলো উপনিবেশবাদ। মিশেল ডয়েলের মতে, সাম্রাজ্যবাদ হলো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ও তা দীর্ঘস্থায়ী করার একটি প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে বর্ণবাদ ও পুরুষতন্ত্র উপনিবেশবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করেছে।

পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরু থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় শক্তিগুলো বিশ্বব্যাপী তাদের দখলদারত্ব বজায় রেখেছিল। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী ছিল মূলত পর্তুগাল ও স্পেনের সমুদ্রপথে বাণিজ্য বিস্তার ও আমেরিকা অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের সময়। পরবর্তীতে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানির মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৬০০-১৮৭৪) এবং ডাচ্ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই প্রক্রিয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল। মূলত ব্রিটিশ ভোক্তা অর্থনীতির চাহিদা, বিশেষ করে চিনি, মসলা, চা ও বস্ত্রের প্রয়োজনে এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রাথমিক প্রণোদনা তৈরি হয়েছিল।

ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো শুধু দখলদারত্বই কায়েম করেনি, বরং স্থানীয় ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে গণবিরোধী নীতিমালা প্রয়োগ করেছিল। এই দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চাপ উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি – ১। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: Colonialism has led to racism, racial discrimination, xenophobia and related intolerance [। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: Africans and people of African descent, and people of Asian descent and indigenous peoples were victims of colonialism and continue to be victims of its consequences. -Durban Declaration of the World Conference against Racism, Racial Discrimination। 2001. প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহের সাধারণ পরিচয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের বিস্তার ও শাসন-শোষণের নির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে ধারণাও আমাদের এই আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন অধিকৃত অঞ্চলে নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য উপনিবেশবাদ কী কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, বিশেষত উপনিবেশিত অঞ্চলের ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ভেতর দিয়ে উপনিবেশবাদ কীভাবে কাজ করে গেছে, সেই আলোচনাটি তার পর্যালোচনা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিশেষে আমরা আলোচনা করব, ঔপনিবেশিক শাসনের প্রত্যক্ষ অবসানের পরও ‘স্বাধীন’ দেশগুলোতে কীভাবে নানা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রের জনস্বার্থপরায়ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে অন্তরায় হিসেবে জারি থাকে এবং সেই অন্তরায়গুলো অতিক্রম করার জন্য কীভাবে ঔপনিবেশিক অবশেষগুলোর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিরায়ত ল্যাটিন ভাষায় ‘colonialism’-এর প্রতিশব্দ না থাকলেও, ভাষার বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ল্যাটিন ‘পড়ষবৎব’ আর ‘পড়ষড়হরধ’ শব্দযুগল মিলে ইংরেজিতে ‘পড়ষড়হরধষরংস’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content