সারাদেশ

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ ও তার পরিবারের শেষ বিদায়

  প্রতিনিধি 23 August 2026 , 7:40:04 প্রিন্ট সংস্করণ

কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে পাশাপাশি সমাধিস্থ করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ার মহাশ্মশানে বাবা ও ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। একই ঘটনায় নিহত দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীকে মুসলিম ধর্মীয় রীতি মেনে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে দেবাশীষসহ পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মরদেহগুলো নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন স্বজন ও সহকর্মীরা। রাত ১০টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রিয় সহযোদ্ধাকে শেষবারের মতো দেখতে আড়ুয়াপাড়ার বাড়ির সামনে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং তার স্ত্রী আফসানা শারমিন ছিলেন মুসলিম পরিবারের সন্তান। বিয়ের পরও তারা নিজ নিজ ধর্ম পালন করতেন। দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, পুত্রবধূ আফসানা শারমিন জীবিত থাকা অবস্থায় তার মাকে জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর যেন তাকে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়। শারমিনের মায়ের ইচ্ছানুযায়ী রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

কুষ্টিয়ার সাংবাদিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত জীবনে সততা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতায় এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার সহকর্মীরা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা জানান, সাত বছর বয়সী মেয়ে মাহিমাকে দাদা-দাদির কাছে রেখে গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা হন দেবাশীষ। অন্যদিকে, জামাতা ফিরোজের চিকিৎসার জন্য ৬ আগস্ট কলকাতা যান আকরাম আলী। ফিরোজ দেশে ফিরে এলেও আকরাম আলী কলকাতায় থেকে যান এবং পরে দেবাশীষ, তার স্ত্রী ও সন্তান সেখানে তার সঙ্গে যোগ দেন। বুধবার নিউমার্কেট এলাকায় কেনাকাটা শেষে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

তবে নিউমার্কেট এলাকার ওই আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারান, যার মধ্যে দেবাশীষের পরিবারের চার সদস্য ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো কুষ্টিয়া জেলা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। শেষ বিদায়ে বাবা ও ছেলেকে পাশাপাশি শায়িত করা হয়েছে এবং একই কবরস্থানে পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন আফসানা শারমিন ও তার বাবা আকরাম আলী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কফিনে মোড়ানো সহকর্মীর মরদেহ দেখে সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাংবাদিকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জীবদ্দশায় যে বাবা ছিলেন সন্তানের আশ্রয়, মৃত্যুর পরও যেন সেই বন্ধন অটুট রইল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মৃত্যুতে একটি পরিবার যেমন একসঙ্গে চারজনকে হারিয়েছে, তেমনি কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতাও হারিয়েছে একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মীকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মর্মান্তিক এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।’।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content