আন্তর্জাতিক

গ্যাস সরবরাহ সংকটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার

  প্রতিনিধি 12 September 2026 , 11:07:09 প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার বর্তমানে এক নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিজস্ব গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। এই সংকট মোকাবিলায় কাতার প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানির জন্য আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি বর্তমানে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন মার্কিন রপ্তানি প্রকল্পগুলো থেকে গ্যাস সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহী।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করত কাতার। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে কাতার তাদের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই ইরানের হামলায় এই বৃহৎ স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, কেন্দ্রটি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের আশঙ্কায় কাতার এখন নতুন করে কৌশল সাজাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই এবং শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে এই সংঘাত ২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। গোপনীয় এই আলোচনার বিষয়ে কাতারএনার্জি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে কাতার এখন মরিয়া হয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে।

কাতারের হাতে অবশ্য মার্কিন জ্বালানি বাজারে প্রবেশের কিছু সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে। টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি কারখানার অন্যতম মালিকানা কাতারের দখলে, যা গত এপ্রিল থেকে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এছাড়া কাতারএনার্জি ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও তারা ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে। মূলত স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ইউনিটটি এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত আমদানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এমন তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্ভাব্য এই চুক্তিগুলো থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কীভাবে কাতারকে তার গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কাতারএনার্জি সাড়া দেয়নি।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content