প্রতিনিধি 20 August 2026 , 2:28:35 প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বাধ্যবাধকতার কারণেই বর্তমান সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ বা ‘কবর’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে চিফ হুইপ জানান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে দেশের মহামান্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আসন পুনর্নির্ধারণের মতো সব কাজই বিদ্যমান সংবিধান মেনেই করা হয়েছে।
নূরুল ইসলাম মণি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় তা মেনে চলা ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদ সংশোধন করা সম্ভব হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।
গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত আমেজ থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, এবার ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনে হার-জিত জেনেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে তিনি স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিজয়ের পর অভিনন্দন জানানোর ঘটনায় রাজনীতিতে সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার এই স্বাভাবিক হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে।
ভোটাভুটিতে ছয়জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করে চিফ হুইপ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে তারা ভোট দিতে পারেননি। অনুপস্থিতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস (পূর্বানুমতি সাপেক্ষে), চট্টগ্রামের কামাল পাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ড. ওসমান ফারুক রয়েছেন। এছাড়া খেলাফত মজলিসের সদস্য আব্দুল হান্নান, স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা এবং গাজী নজরুল ইসলামও নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় বাধ্য হয়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট যাবতীয় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভবিষ্যতে যেন ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত পরিবেশে প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি জানান, অসুস্থতা ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে মোট ৬ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে পারেননি।
সূত্র: মানবজমিন



















