প্রতিনিধি 15 September 2026 , 2:19:39 প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়েমেনের হুথি বাহিনী যেকোনো ধরণের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হলে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। শনিবার আল-জাজিরা অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপটি দখলের পর থেকেই এ অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।

হুথিদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের জাহাজগুলো। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সম্মিলিত সামরিক উদ্যোগ নেয়, তবে বাব আল-মান্দেব হয়ে সৌদি জাহাজ বা ট্যাঙ্কারগুলোর যাতায়াত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে। অতীতেও আনসারুল্লাহ হুথিরা এই জলপথে সফলভাবে অবরোধ কার্যকর করতে পেরেছিল, যার ফলে লোহিত সাগর দিয়ে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট এবং সৌদি জাহাজগুলোর চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকেও হুথিরা এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। পূর্বে তারা স্থলভাগের ৩০০ কিলোমিটার বা ১৮৬ মাইল ভেতর থেকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান নিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারত। এখন তারা বাব আল-মান্দেব থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে, উপকূল থেকেই সরাসরি স্বল্প-পাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিশেষ ‘ড্রোন বোট’ ব্যবহার করে সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সক্ষম।
তাদের এই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আরও সংহত হয়েছে বাব আল-মান্দেবের উত্তরে অবস্থিত হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের মাধ্যমে। এই দ্বীপগুলো এখন জলপথের চেকপয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা লোহিত সাগরে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর রাডারভিত্তিক নজরদারি করতে সহায়তা করছে। এর ফলে ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, এডেন উপসাগর এবং সুদূর পূর্ব এশিয়া থেকে আসা নৌযানগুলোর গতিবিধির ওপরও হুথিরা বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা আগে তাদের জন্য অসম্ভব ছিল।
সূত্র: গালফ বাংলা



















