প্রতিনিধি 25 August 2026 , 8:09:14 প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অভিনয়ে নিয়মিত হয়েছেন অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিক থেকেই নাটকের প্রতি তাঁর বিশেষ টান রয়েছে। অভিনয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও, সহশিল্পীদের সহযোগিতা তাঁকে পথ চলতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে কাজ করতে তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। শার্লিনের মতে, অপূর্ব একজন অত্যন্ত সহযোগিতাপরায়ণ সহশিল্পী, যিনি অভিনয়ের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে ক্লোজ শট নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতেও সহশিল্পীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই কমফোর্ট জোনের কারণেই অপূর্বর সঙ্গে কাজের অফার এলে তিনি খুব একটা চিন্তাভাবনা ছাড়াই রাজি হয়ে যান। ‘গোলাম মামুন’ নাটকে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছিল।

নাটকের নির্মাণশৈলী ও বাজেটে আসা পরিবর্তন নিয়ে শার্লিন বেশ আশাবাদী। আগে প্রচণ্ড চাপের মুখে দিনে দুটি নাটকের শুটিং করতে হতো, কিন্তু বর্তমানের কাজের পরিবেশ অনেক বেশি আরামদায়ক। কাজের চাপ কমায় চরিত্রায়ণে সময় দেওয়ার সুযোগ বেড়েছে, যা নাটকের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তিনি মনে করেন, পুরো এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে সুন্দর নাটক তৈরি হয়। পাকিস্তানি বা ভারতীয় সিরিজের তুলনায় আমাদের নাটকের আলাদা সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রয়েছে, যা অনেক সময় বড় পর্দাতেও পুরোপুরি ফুটে ওঠে না।
দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার সময় নিজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন শার্লিন। সিনেমায় কাজ করার সময় পোস্ট-প্রোডাকশনে কারেকশনের সুযোগ থাকলেও নাটকে সরাসরি স্ক্রিনে নিজেকে ফিট দেখাতে হয়। তবে অপূর্ব তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, অভিনয় ভালো হলে অন্য কিছু নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। শুটিংয়ের প্রথম দিন কিছুটা জড়তা থাকলেও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর সেই দ্বিধা কেটে যায়। তিনি জানান, অভিনয়ের পাশাপাশি এখন থেকে নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আগামী ঈদের জন্য বেশ কিছু কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন এবং কয়েকটি চূড়ান্তও করেছেন।
চরিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে শার্লিন বই পড়াকে নিজের বড় শক্তি মনে করেন। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝতে তাঁর সুবিধা হয়। এছাড়া বাস্তব জীবনের চরিত্র পর্যবেক্ষণ বা ভিজ্যুয়াল ডায়েরি থেকে তিনি আইডিয়া সংগ্রহ করেন। তবে ভালো স্ক্রিপ্ট এবং টিমের সহযোগিতা থাকলে অভিনয় অনেক সহজ হয়ে যায় বলে তিনি মনে করেন।
অভিনয়ের বাইরেও শার্লিন নিজেকে নতুন কোনো পেশায় যুক্ত করতে আগ্রহী। তাঁর স্বামী নিয়মিত করপোরেট চাকরির চ্যালেঞ্জ ও কষ্টের কথা বলেন, যা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও করপোরেট লাইফের অভিজ্ঞতা নিতে চান। তিনি জানান, কাজ ছাড়া ঘরে বসে থাকা তাঁর স্বভাব নয়। করোনাকালীন সময়ে ফুড বিজনেস করে সফল হওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অভিনয়ের পাশাপাশি একটি নিয়মিত চাকরি বা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান তিনি।
একজন মা হিসেবে শার্লিনের চাওয়া খুব সাধারণ। তিনি চান সরকার যেন দেশের মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। জাঁকজমকপূর্ণ অবকাঠামোর চেয়ে শিক্ষার হার বাড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, লোডশেডিং ও যানজট কমানো এবং দুর্নীতি রোধ করাকে তিনি বেশি জরুরি বলে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, দৈনন্দিন জীবনে এই স্বস্তিগুলো ফিরে এলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ দেশেই একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল জীবন পাবে।
সিনেমার তুলনায় নাটকের কাজের ধরন নিয়ে শার্লিন বলেন, সিনেমায় হয়তো এক মাস ধরে কাজ হয়, কিন্তু নাটকে যতই সাত দিন ধরে কাজ হোক না কেন, গল্পটা ৪০ থেকে ৬০ মিনিটের হয়। এই স্বল্প সময়ের চাপের ভেতর পুরো টিমের সঙ্গে যে অসাধারণ কেমিস্ট্রি তৈরি হয়, সেটিই তিনি সবচেয়ে বেশি মিস করছিলেন। যদিও নাটকে নিয়মিত সময় দেওয়া কঠিন, তবুও প্রতি মাসে দু-তিনটি ভালো কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেমন ‘গোলাম মামুন’ করার সময় চিন্তাই করিনি স্ক্রিপ্টটা কেমন বা আমি কী কাজ করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা আমার একটা বৈশিষ্ট্য বলতে পারেন যে সহশিল্পী যদি পছন্দের বা কমফোর্টেবল কেউ হন, বিশেষ করে অপূর্ব ভাই, তাহলে বেশি চিন্তাভাবনা করি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই যখন কাজের অফারটি এল, ‘না’ করতে পারিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেমন ‘শার্লিন, মেকআপটা এভাবে করো’, ‘লুকটা এ রকম দাও।’ অনেক সময় হয়তো আমার একটি ক্লোজ শট নেওয়া হলো না বা ডিরেক্টর খেয়াল করলেন না, তখন উনি নিজে বলে দেন ‘ওর ক্লোজ শটটা নাও।’ উনি শুধু আমার সঙ্গেই না, প্রত্যেক কো-আর্টিস্টের সঙ্গেই এই কমফোর্ট জোনটা তৈরি করে দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার ধারণা, এ কারণে যেকোনো মানুষ খুব নির্বিঘ্নে তাঁর সঙ্গে কাজের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলে দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাটকের বাজেট ও নির্মাণে পরিবর্তন এসেছে, ফেরার পর পরিবর্তনটা কেমন লাগছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে কাজের মান তো ডেফিনেটলি অনেক ভালো হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো



















