প্রতিনিধি 13 September 2026 , 4:23:43 প্রিন্ট সংস্করণ

দিল্লিতে ১২ থেকে ১৩ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। পরিবর্তিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বহুমেরুকেন্দ্রিক ভূ-রাজনীতি এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এই সন্ধিক্ষণে ব্রিকসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অথচ আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেও সেখানে তার অনুপস্থিতি জাতীয় স্বার্থের বিচারে গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিশেষ করে যখন জাতিসংঘের মহাসচিবসহ বিশ্বের ১১টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী জোটের নেতারা এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তখন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই অনুপস্থিতি অনেক প্রশ্ন সামনে এনেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ৪ঠা আগস্ট, যখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর একটি ছিল ফেব্রুয়ারি-২০২৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ। অপরটি ছিল বিমসটেক (BIMSTEC)-এর বর্তমান চেয়ার হিসেবে তাকে ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বরের ‘ব্রিকস আউটরিচ সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আসিয়ান বা বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের এই সেশনে আমন্ত্রণ জানানো একটি প্রচলিত রীতি।
তবে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয় ১০ই সেপ্টেম্বর, যখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, বরং বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে সেই পদে আমন্ত্রণ এসেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর দ্বিপাক্ষিক হওয়াই যুক্তিসঙ্গত, বহুপাক্ষিক নয়। এই বক্তব্যের পরই প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সব সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চে সরাসরি নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ হারিয়েছে। একই সঙ্গে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষা, ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার পরিসর বাড়ানোর সুযোগটিও হাতছাড়া হয়েছে। সরকারের ঘোষিত স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এর সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই অনুপস্থিতি নীতিগত অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘ভারত বনাম চীন’ অথবা ‘পশ্চিম বনাম বৈশ্বিক দক্ষিণ’-এর মতো কোনো কৃত্রিম দ্বৈততায় আটকে রাখা উচিত নয়। বরং জাতীয় স্বার্থই হওয়া উচিত কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারণের মূল মাপকাঠি। কোনো কারণে সরকারপ্রধান সরাসরি উপস্থিত হতে না পারলেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের কাউকে সেখানে পাঠানো প্রয়োজন ছিল। যদি ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে অনুপস্থিতি একটি কূটনৈতিক ধারাবাহিকতায় পরিণত হয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থেও এর চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুদ্ধের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ও ইরানের প্রেসিডেন্ট BRICS সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে এই সম্মেলনের বৈশ্বিক গুরুত্ব সহজেই অনুধাবন করা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই দর্শনের ঘোষণা দেয়া সরকারের কাছ থেকেই প্রত্যাশা ছিল জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ কি তার আঞ্চলিক নেতৃত্বের এই কূটনৈতিক দায়িত্বকে একটি বৃহত্তর বহুপক্ষীয় মঞ্চে উপস্থাপন করার সুযোগ নেবে, নাকি আমন্ত্রণের প্রকৃতি নিয়ে আপত্তির কারণে পুরো সুযোগটিই ছেড়ে দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: BRICS কোনো সামরিক জোট নয়, NATO-ধরনের নিরাপত্তা কাঠামোও নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি এখন উদীয়মান ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্ল্যাটফরম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য রয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন



















