প্রতিনিধি 31 August 2026 , 6:33:03 প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ প্রণালীতে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এই পরিস্থিতির ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কাতার এনার্জি পাকিস্তানি ক্রেতাদের জানিয়েছে যে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিল বা স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বর পেরিয়ে আরও বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপীয় বাজারগুলোতেও এই স্থগিতাদেশের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ইতালির শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘এডিসন’ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আগামী নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালে আসার কথা ছিল এমন অতিরিক্ত পাঁচটি কার্গো সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। এর ফলে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে চলা এই ফোর্স মেজরের মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গড়াচ্ছে এবং এ পর্যন্ত মোট ২৯টি কার্গো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এডিসন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধার মুখে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি। পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাআবি জানিয়েছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে যায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় গত জুলাই মাসে, যখন হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’-এর ওপর হামলা হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। যদিও জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, তবে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনার অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফর করে শীর্ষ ইরানি নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল-থানি। নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ সুগম করার লক্ষ্যে কাতার তার মধ্যস্থতা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত কার্গোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে সংকট মোকাবেলার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: গালফ বাংলা



















