জাতীয়

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী: জ্বালানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর

  প্রতিনিধি 9 August 2026 , 11:23:09 প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। রোববার (৯ আগস্ট) এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের সময় তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছান এবং বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।

ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন যে, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশীয় কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন। পরিদর্শনকালে প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পের কারিগরি দিক সম্পর্কে জানা যায়, দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে অত্যাধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণ বন্দর, সঞ্চালন লাইন এবং অ্যাকসেস রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ব্রিফিং শেষ করে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। দুপুর ১২টা ২৯ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এর সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য শোনেন।

একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো দেখানো হয়। তিনি এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরবর্তীতে কোল জেটি পরিদর্শনকালে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহণ ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থানসমূহ ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের অবকাঠামোগত পরিকল্পনা তার সামনে তুলে ধরেন।

দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহারের পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেন।

মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ব্যবহার দেশের শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান।

এরপর তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content