প্রতিনিধি 13 August 2026 , 9:41:15 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায় এবং তাদের ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তাই ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপলব্ধি করেন। তিনি মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনাগুলো সরাসরি খতিয়ে দেখার আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সী, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’
দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বড় বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের মতো শক্তির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তার সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে একটি বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে।
জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকসের মতো খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের জানান, তারা এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।
‘দয়া করে আমাদের পুরো সরকারকে আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে।
অবকাঠামো, বন্দর ও জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কিংবা পরামর্শক সেবা—যে কোনো উপায়েই মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানানো হবে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ব্যাপারে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
‘আসুন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াই এবং আপনাদের কোম্পানিগুলোর সমৃদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করি। আসুন, আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফল সফর কামনা করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী ও উভয়ের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















