সারাদেশ

মুগদা হাসপাতালে শিশু রোগীদের উপচে পড়া ভিড়, সংকটে অভিভাবকরা

  প্রতিনিধি 20 September 2026 , 10:25:33 প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। শয্যাস্বল্পতার কারণে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে তোশক পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের পরিবেশজুড়ে এখন শুধুই উদ্বেগ আর অস্বস্তি। শিশুদের হাতে ক্যানুলা, চোখেমুখে শারীরিক কষ্টের ছাপ আর অভিভাবকদের চোখে দুশ্চিন্তার জল—সব মিলিয়ে এক নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পাঁচ বছর বয়সী নাফিয়া পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। তাকে গত শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাবা নূর আলম জানান, নাফিয়া হাম ও ডেঙ্গু উভয় রোগে আক্রান্ত, সেই সঙ্গে তার হৃদ্‌যন্ত্রেও ছিদ্র রয়েছে। মেয়ের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে তার মা মাহমুদা আক্তার জানান, চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন শিশুটির অবস্থা ভালো নয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় ওষুধ দিলেও মেয়ের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় তারা ভেঙে পড়ছেন।

একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নয় বছর বয়সী শারিনা গত বৃহস্পতিবার থেকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছে। তার বাবা আশিকুর রহমান জানান, ভর্তির পর তার মেয়ের প্লাটিলেট ৩৪ হাজারে নেমে গিয়েছিল, যা দেখে তারা চরম আতঙ্কিত ছিলেন। এখন যদিও শারিনার অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং রোববার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তবুও বাবার দুশ্চিন্তা কাটছে না; কারণ মেয়ের রক্তচাপ এখনো ওঠানামা করছে। ওয়ার্ডের এক কোনায় মেঝেতে শুয়ে থাকা ১১ বছর বয়সী আয়েশাও গত তিন দিন ধরে ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করছে। তার বাবা মো. সজীব জানান, চিকিৎসকরা সব পরীক্ষার ফল ভালো বললেও মেয়ের শারীরিক অবস্থার প্রকৃত উন্নতি হচ্ছে না বলে তিনি উদ্বিগ্ন।

হাসপাতালের ভেতরে সারাক্ষণই চলছে স্বজনদের ছোটাছুটি। কেউ স্যালাইন হাতে, কেউ পরীক্ষার কাগজ নিয়ে ছুটছেন। ওয়ার্ডের প্রতিটি কোণায় উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। মেঝেতে জায়গা করে নেওয়া শিশুদের কপালে হাত রাখা, বাতাস করা কিংবা বারবার জ্বর পরীক্ষা করার মধ্য দিয়েই সময় কাটছে অভিভাবকদের। চিকিৎসকদের পরামর্শ আর সেবার ওপর ভরসা রেখে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় প্রতিটি পরিবার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সন্তানের একের পর এক অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে নাফিয়ার বাবা যেন নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিকিৎসকেরা কী বলেছেন জানতে চাইলে নাফিয়ার মা মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘ডাক্তার সকালে দেখে বলছে পজিশন খারাপ।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাফিয়ার বেশ কাছেই একটি বেডে ৯ বছরের শারিনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিছানার পাশে বসে বাবা আশিকুর রহমান চিকিৎসকের পরামর্শপত্র (প্রেসক্রিপশন) দিয়েই মেয়েকে বাতাস করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছুক্ষণ পরপরই গায়ে হাত দিয়ে দেখছেন জ্বর আছে কি না, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডাক্তাররা ডোনার রেডি রাখতে বলেছিলেন।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content