প্রতিনিধি 15 September 2026 , 7:55:47 প্রিন্ট সংস্করণ

রবি ও বোরো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে সার ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে প্রস্তুত সরবরাহ রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন সার বেশি মজুত ও সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়া এবং সম্ভাব্য সংকট এড়ানো।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার গত ১৪ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠিতে এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়। এতে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় সার বরাদ্দের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশেষ করে দেশের ৬৪ জেলায় টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের যে চাহিদা রয়েছে, তার বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অক্টোবরে টিএসপি সারের মোট ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন চাহিদার পুরোটাই বিএডিসির মাধ্যমে এবং ডিএপি সারের ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টনের প্রায় পুরোটা বিসিআইসি ও বিএডিসির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কেবল কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নয়, বরং মাঠপর্যায়ের কৃষি চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে জেলাভিত্তিক এই সরবরাহ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম জানান, বর্তমান সরকারের সার ব্যবস্থাপনার মূলভিত্তিই হলো চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা এবং আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ। মাঠপর্যায়ে সার বিতরণ ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল গঠনের কাজও শুরু হয়েছে, যা ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে।
সার সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আমদানির ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এর আগে আগস্ট মাসেও রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে সার আমদানির বড় কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন সার গুদামে মজুত ছিল। একই সময়ে পরিবহনের অপেক্ষায় ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন সার।
মো. আব্দুর রহিম আরও জানান, সারের চাহিদা, সময় এবং বিতরণের প্রতিটি পর্যায় সমন্বয় করে দেখা হচ্ছে। কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা বা ঘাটতির আভাস মিললে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের এক চিঠি ও সংযুক্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে বিসিআইসি ১ হাজার মেট্রিক টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া অক্টোবর মাসে এমওপি সারের মোট চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন এবং সমপরিমাণ সারই জেলা-ওয়ারি বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের অক্টোবরের মোট জেলা-ভিত্তিক চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা পরিমাণ নির্ধারণ করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ব্যবস্থাকে কৃষকের প্রয়োজনের সঙ্গে সার সরবরাহের সরাসরি সমন্বয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে আগস্টেও বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া সার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি গঠন এবং ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ











