প্রতিনিধি 12 September 2026 , 7:33:57 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্কের রসায়ন তিন দশক পেরিয়েও ভক্তদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ পারিবারিকভাবে ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তাঁরা। এর দেড় বছর পর ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩১ বছরের পথচলায় সংসার, সন্তান ও নানা গুঞ্জন পেরিয়েও তাঁরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে আছেন। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় মৌসুমীর প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন ওমর সানী।

মৌসুমীর কোন বিষয়টি তাঁকে সবচেয়ে বেশি টানে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, মৌসুমীর যত্নশীলতা ও জেদ তাঁকে ভীষণ মুগ্ধ করে। তিনি জানান, মৌসুমী অনেক কথা মনে চেপে রাখতে পারেন, যা সানী পারেন না। সানীর মতে, তাঁর তুলনায় মৌসুমীর ধৈর্য অনেক বেশি। এছাড়া স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে বিশ্বাস ও ত্যাগের ওপর জোর দিয়েছেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, তাঁদের সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা। মৌসুমী মাঝেমধ্যে সানীর ভুল ধরিয়ে দিয়ে বকাঝকা করলেও দিনশেষে তিনিই আবার সানীর সবকিছুর খেয়াল রাখেন, যা তাঁকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়।
সংসার জীবনে মাঝেমধ্যে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়ালেও এসব নিয়ে বিচলিত নন এই দম্পতি। ওমর সানী জানান, মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে এসব বিষয় নিয়ে নেতিবাচক লেখালেখি হলে মৌসুমী শান্তভাবে বলেন, হয়তো এসব লিখে বা বলে কারো সংসার চলে, তাই তারা এমনটা করে। সব আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে গিয়ে ওমর সানী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন-ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’
তাঁদের সম্পর্কের শুরুর গল্পটি বেশ নাটকীয়। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর পরিচালক শেখ নজরুল ইসলামের হাত ধরে প্রথমবার মৌসুমীর সঙ্গে দেখা হয় সানীর। তবে প্রথমবার কাজের সুযোগ না মিললেও ১৯৯৩ সালে ‘দোলা’ ছবির মাধ্যমে তাঁরা প্রথমবার জুটি বাঁধেন। সিলেটের শুটিং স্পটে কাজের সুবাদে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য হলেও একসময় তা ভালো লাগায় রূপ নেয়। মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব ও তাঁর পরিবারের আন্তরিকতা সানীকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাম্পত্য জীবনের সূচনা ঘটায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’ মৌসুমীর আরেকটি গুণের কথাও উল্লেখ করেন ওমর সানী, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করবা, কী করতে চাও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’।
সূত্র: প্রথম আলো



















