প্রতিনিধি 11 September 2026 , 6:32:34 প্রিন্ট সংস্করণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। আবুধাবির পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে চালানো ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের জের ধরে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কোন নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আলজেরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেনি।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার ফলে আরব আমিরাতের নিবন্ধিত সব সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেবে আলজেরিয়া। তবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্সে যাতায়াতকারী আমিরাতের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আশা করছে আলজেরিয়ার এই পদক্ষেপটি সাময়িক হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভ্রাতৃপ্রতিম আলজেরিয়ার জনগণের প্রতি আমিরাতের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধন নিয়ে তারা গর্বিত। বিশেষ করে আমিরাতে বসবাসরত আলজেরীয় সম্প্রদায় ও পর্যটকদের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আবুধাবি।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা আর গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার সব পথ তারা বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে গত বছরের এক বক্তব্যে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবউন উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশের নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেছিলেন যে, দেশটি আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করলেও ইশারাটি ছিল আমিরাতের দিকেই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটির অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোর বিরোধী হলেও, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আমিরাত ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এছাড়া পশ্চিম সাহারা ইস্যুতেও দেশ দুটির মধ্যে মতপার্থক্য প্রকট। আমিরাত পশ্চিম সাহারাকে মরক্কোর অংশ মনে করে এবং সেখানে তাদের একটি কনস্যুলেটও রয়েছে, অন্যদিকে আলজেরিয়া পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত দেখা দিয়েছে। আমিরাত ওই অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও, সামরিক অভ্যুত্থানের পর আলজেরিয়ার সঙ্গে ওই প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়া ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে সই হওয়া বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সব জায়গা তারা নষ্ট করে ফেলেছে।
সূত্র: প্রথম আলো



















