জাতীয়

এসএসসি পরীক্ষার ফলে কৃত্রিমতা দূর করে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে: মাহদী আমিন

  প্রতিনিধি 10 August 2026 , 1:49:14 প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, এবারের ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ড. মাহদী আমিন জানান, বর্তমান সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সারাদেশে একক প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাতার শতভাগ নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থীরা যেভাবে পড়াশোনা করেছে, ফলাফল ঠিক সেভাবেই এসেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি তাদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই, সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে। বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব না হলেও একটি আত্মনির্ভরশীল ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রম পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে এবং নতুন চারটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে ঢাকা পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ক্রীড়া-সংস্কৃতির সন্নিবেশ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক সংমিশ্রণ বা টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশনের লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ভালো ফল করা শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি যেসব জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে।

এরফলে ফলাফলের ভালো বা মন্দের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content