প্রতিনিধি 1 September 2026 , 4:00:45 প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের পাল্টা শক্তি হিসেবে পরিচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-এর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে কিরগিজস্তানে। সোমবার দেশটির রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব মোকাবিলায় এই সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো।

সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে পুতিন চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করার বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। এছাড়া মঙ্গলবার এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরুর আগে পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের সূচি রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে নতুন অংশীদারিত্ব জোরদারে তৎপর।
২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে একটি নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করেছিল। গত ২৫ বছরে সংস্থাটির আকার ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানসহ মোট ১০টি দেশ এর সদস্য। এছাড়া আরও অনেক দেশ ‘সংলাপ অংশীদার’ হিসেবে যুক্ত রয়েছে। তবে সংস্থাটির লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।
চীন ও রাশিয়া এসসিওকে জি৭-এর মতো পশ্চিমা সংগঠনগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বেইজিং সম্প্রতি সংস্থাটির পরিধি বাড়াতে উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, সংস্থাটি আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি নতুন পথ খুঁজে বের করতে সফল হয়েছে। রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে চীন দীর্ঘদিন ধরে একটি বিকল্প বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণা প্রচার করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসসিও কোনো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক বা সামরিক জোট নয় এবং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও মতপার্থক্য রয়েছে। কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক দিনকর পেরির মতে, এই ফোরাম ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যা বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত ভূরাজনৈতিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণ এবং নিজেকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
সূত্র: মানবজমিন


















