প্রতিনিধি 14 September 2026 , 12:02:20 প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি এই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনপত্রের জন্য রাজার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজার জন্য পাল্টা শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আরও প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ আবার অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই ধারাকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। ওয়েষ্টমিনিস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় যুক্তরাজ্যের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশ আরও তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে তৈরি পোশাকসহ প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এই বাণিজ্য সুবিধাকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। এছাড়া ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বিনিময়ের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করার উদ্যোগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে, যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার, উন্নয়ন পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















