প্রতিনিধি 11 August 2026 , 8:26:27 প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ছয় মাস বা ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি নিজেও এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতির সামনে ভাষণ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি জনগণের সামনে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার এ খাতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। ইশতেহারে ঘোষিত আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ নামের নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে, যা যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশন জেলায় প্রথম বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। এটি চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি প্ল্যান্টটি একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক পাইলটিংয়ের অংশ হিসেবে গত ১০ মার্চ এই কার্যক্রম শুরু হয়। জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ শেষে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
সূত্র: যুগান্তর



















