প্রতিনিধি 20 September 2026 , 2:03:18 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের মিনাব শহরে অবস্থিত শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো মার্কিন হামলায় ১২৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভুল তথ্য এবং পুরোনো স্যাটেলাইট ছবির ওপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণেই এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই পেন্টাগনের কিছু কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, হামলাটি মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকেই চালানো হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন ১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছিল। এ কারণে লক্ষ্যবস্তু যাচাইয়ের জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল না। এর পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা পর্যাপ্ত কর্মী না থাকা এবং হামলার স্থানটি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের অভাব ভুল লক্ষ্য নির্ধারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি আগে একটি সামরিক স্থাপনার অংশ ছিল, যা পরবর্তীতে দেয়াল দিয়ে আলাদা করে প্রকাশ্যে স্কুল হিসেবে চালানো হচ্ছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ পালান্টির প্রযুক্তির ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেম’-এর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, এই সফটওয়্যারটি পুরোনো বা অসঙ্গতিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যগুলো সহজেই শনাক্ত করতে পারবে। তবে পালান্টির কর্তৃপক্ষ এই দায় অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, হামলার পেছনে ব্যবহৃত তথ্যের দায় তাদের নয় এবং গোয়েন্দা ঘাটতি চিহ্নিত করা তাদের সফটওয়্যারের কাজ নয়।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়া একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ এক তথ্য সামনে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে চালানো ওই বিমান হামলাগুলো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের ভাষ্যমতে, বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু বা স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনী নির্বিচারে এই হামলা চালিয়েছিল। সব মিলিয়ে ভুল এআই প্রযুক্তি আর তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্তে যে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেন্টাগনের কিছু কর্মকর্তা জানতে পারেন যে হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়াও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পালান্টির অবশ্য বলেছে, ব্যবহৃত মূল তথ্যের জন্য তারা দায়ী নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হামলার জন্য তাদের সফটওয়্যার দায়ী ছিল—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
সূত্র: গালফ বাংলা



















