প্রতিনিধি 25 August 2026 , 6:36:28 প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বড় আকারের প্রতিনিধিদল নিয়ে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। তিনটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই সফরটি নিশ্চিত হলে সাত বছর পর ভারতে এটি হবে শির প্রথম সফর। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার যে প্রচেষ্টা চলছে, এই সফর সেই প্রক্রিয়ায় নতুন গতির ইঙ্গিত দেবে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ভারতীয় সূত্র জানিয়েছেন, চীনা কর্মকর্তারা বর্তমানে হোটেল বুকিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবার চীন সফর করেছিলেন। তবে এরপরও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন পুরোপুরি কাটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বাগযুদ্ধও হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, শির সফরসঙ্গী হিসেবে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদল থাকতে পারে। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলের সদস্য সংখ্যা ছিল ২০০ জনের কম। সম্মেলনের ফাঁকে দুই দেশের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য বজায় রেখেই পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে শি জিনপিংয়ের চূড়ান্ত সফরসূচি এবং ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারতকে সমর্থন করে। তবে প্রেসিডেন্টের সফরের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিং অংশ নেননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন, যেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসবেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও চীন এখনো একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ব্রিকস সম্মেলনে শির উপস্থিতি এমন একটি বার্তা দেবে যে, বাইরের চাপের মুখে দুই দেশই এই জোটের সহযোগিতাকে দুর্বল হতে দিতে চায় না।
সব মিলিয়ে, শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর নিশ্চিত হলে তা কেবল ব্রিকস সম্মেলনের গুরুত্বই বাড়াবে না, বরং দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার পর ভারত-চীন সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি বড় কূটনৈতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি বছরের ব্রিকস সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করতে বর্তমান সভাপতি ভারতকে আমরা সমর্থন করি।
সূত্র: মানবজমিন



















