প্রতিনিধি 20 September 2026 , 4:43:01 প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের গ্রামে বেড়ে ওঠা অপূর্ব কৃষ্ণ দের ছোটবেলা থেকেই মূর্তা বা বেতিগাছের তৈরি শীতলপাটি এবং এর কারিগরদের কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। সময়ের পরিবর্তনে শীতলপাটির চাহিদা কমায় কারিগরদের আয়ের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, তা অপূর্বকে ভাবিয়ে তোলে। এই ঐতিহ্যবাহী পণ্যটিকে কেবল মাদুর হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে নিত্যব্যবহার্য অন্য কোনো পণ্যে রূপান্তর করা যায় কি না—এই চিন্তা থেকেই গড়ে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ‘বুনন বাজার’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।

উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত অপূর্ব কৃষ্ণ দে (ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ), আবির দে, মো. আশিক মিয়া এবং চৌধুরী খুবাইব বিন করিম (ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট)। তাঁদের এই যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পড়াশোনা এবং এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট কোর্সের ব্যবহারিক জ্ঞান বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। চৌধুরী খুবাইব বিন করিম জানান, একাডেমিক পড়াশোনা শুধু এই আইডিয়া তৈরিতেই নয়, বরং তা বাস্তব ব্যবসায় রূপ দেওয়ার কৌশল শিখিয়েছে। দ্য আর্থ সোসাইটি এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় গ্রিন ভয়েস মাস্টার বুটক্যাম্প থেকে এক লাখ টাকা তহবিল পাওয়ার পর তাঁদের পণ্য তৈরির কাজ গতি পায়।
শীতলপাটিকে স্যান্ডেলে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। নকশা, আকার, কাট, স্ট্র্যাপের অবস্থান এবং স্যান্ডেলের সোলের সঙ্গে পাটির সমন্বয় করতে উদ্যোক্তাদের বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। চৌধুরী খুবাইব বিন করিম বলেন, ‘শীতলপাটির সঠিক পরিমাপ, শেপ, ডিজাইন এবং সাইজিংয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি দক্ষতা ও সময় ব্যয় করতে হয়েছে। পাটির নিজস্ব বুনন ও টেক্সচার ঠিক রেখে আরামদায়ক স্যান্ডেল তৈরিই ছিল মূল লক্ষ্য।’ বর্তমানে তাঁদের তৈরি শীতলপাটির স্যান্ডেল ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বুনন বাজারের সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার স্বীকৃতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় তারা প্রথম রানারআপ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের আয়োজনে সেরা আট উদ্যোক্তার তালিকায় স্থান পেয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আকিজ রিসোর্সেসের পক্ষ থেকে চার সদস্যই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও তাঁদের উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্যোক্তারা বেশ আশাবাদী। স্যান্ডেলের বাইরে তারা ব্যাগ ও ঘর সাজানোর নানা পণ্য তৈরির চিন্তাভাবনা করছেন। এছাড়া প্রশিক্ষিত কারিগরদের নিয়ে ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্নও তাঁদের রয়েছে। চৌধুরী খুবাইব বিন করিমের ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য ঐতিহ্যকে শুধু সংরক্ষণ করা নয়, বরং তাকে আধুনিক জীবনযাত্রায় নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখা।’ প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইইএলটিএসে ৯-এ ৯ পেয়েছেন রাইসা, পড়ুন তাঁর পরামর্শ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায়ও সেরা ৮-এ জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই গাছের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি শীতলপাটি এবং এর সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের কাজও কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে বিভিন্ন পিচিং (আইডিয়া উপস্থাপন) ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে থাকেন চার শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্রেতার চাহিদা, বাজারের সম্ভাবনা, প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক মডেল, বিপণন, পরিচালনা, আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, ঝুঁকি—সবই বিবেচনায় রাখতে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া মতামত ও পরামর্শ কাজে লাগিয়ে তাঁরা ধারণাটিকে আরও পরিণত করেন।
সূত্র: প্রথম আলো



















