রাজনীতি

ভারত থেকে সন্ত্রাসী আশ্রয় না পাওয়ার প্রত্যাশা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

  প্রতিনিধি 1 September 2026 , 9:17:37 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন ভারতের ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে যেমন বাংলাদেশ আশ্রয় দেবে না, তেমনি ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী যেন বাংলাদেশের ক্ষতি করতে না পারে—সেটাই প্রত্যাশা। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি কনফারেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমন দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সদিচ্ছা তৈরিতে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বৈঠকের আগে সফর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে গিয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারিখ নির্ধারিত না থাকা মানেই আলোচনা থেমে যাওয়া নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলমান রয়েছে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বেইজিংয়ের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ তার বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার ওপরও তিনি জোর দেন।

উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বড় এয়ারক্রাফট বহর তৈরির পরিকল্পনা করেছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মতো বড় বহর গড়ে তুলতে বোয়িং বা এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি কোনো চাপের কারণে নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের চাহিদা পূরণ ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উড়োজাহাজ কেনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ীই এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় নতুন রুট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই উড়োজাহাজ বহর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশ আশা করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই আলোচনার মধ্যেই ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হুমায়ুন কবির বলেন, এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে হলে বাংলাদেশকে আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান চাহিদার সংখ্যাটি হয়তো এত বেশি নয়, তবে আমাদের বোয়িং বা এয়ারবাস কিনতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা বোয়িং বিমান কিনব।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content