প্রতিনিধি 22 August 2026 , 5:18:13 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লিতে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম ভারত সফর হওয়ার কথা থাকলেও, সফরসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ বা ‘ব্যাটল অব নার্ভস’ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয় শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। রাষ্ট্রপতি ভবন প্রথমে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়া থাকায় শনিবারের নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ বা প্রহরী বদলের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এর প্রায় এক ঘণ্টা পরেই সেই বিবৃতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়, কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সফর নিয়ে এই মুহূর্তে তার কাছে বলার মতো কোনো তথ্য নেই।
সফর নিয়ে এই অনিশ্চয়তার পেছনে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকা ইতিমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত সফরের পরিবেশ অনুকূল নয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার অডিও লিংকের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ঢাকার ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সফরের সম্ভাবনার ওপর ছায়া ফেলেছে।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটাতে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষই একটি ‘মধ্যপন্থা’ খোঁজার চেষ্টা করছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তারা একটি নির্দিষ্ট ইস্যুর কারণে সামগ্রিক সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেলতে চায় না। আলোচনার টেবিলে যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিস্তৃত পরিসরের বিষয় রয়েছে। তবে এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক মৌসুমে পানি বণ্টন নির্ধারণকারী এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে বিহারের জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝা সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, নদীসংক্রান্ত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের অধীনে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের প্রেস সচিব এএএম সালেহ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। তবে ঢাকা তার অবস্থানে অটল থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে সফরের সঙ্গে যুক্ত করায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতো ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালেও তারিখ নির্ধারণ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্রগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সফরের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও, দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই নতুন মোড় এখন পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই দিনটি ছিল তার ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজাও হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আমি আপনাদের জানাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই আমরা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা শিগগিরই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী।’।
সূত্র: মানবজমিন



















