প্রতিনিধি 4 August 2026 , 8:21:16 প্রিন্ট সংস্করণ

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং নতুন একটি বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। কয়েক দিনের বিরতির পর সোমবার থেকে পুনরায় শুরু হওয়া এই বৃষ্টি মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীতেও ঝুম আকারে ঝরতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানিয়েছেন, বুধবার থেকে সারাদেশে বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তবে বৃষ্টির উপস্থিতিতেও ভ্যাপসা গরম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নওগাঁর বদলগাছী ও নীলফামারীর ডিমলায় ৭৯ মিলিমিটার, নেত্রকোনায় ৬২, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৬১, কক্সবাজারে ৫৪, বান্দরবানে ৫০, ফেনীতে ৪৭ এবং ঢাকায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নেত্রকোনায় সর্বোচ্চ ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে চাঁদপুরে ৭৬ এবং ময়মনসিংহে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, শনিবার পর্যন্ত এই বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী দুই দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং এর সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বা সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দুই দিনের মধ্যে নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ



















