অন্যান্য

এআই চ্যাটবটে ছবি আপলোড করার ঝুঁকি: আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কতদিন সংরক্ষিত থাকে?

  প্রতিনিধি 12 September 2026 , 11:46:10 প্রিন্ট সংস্করণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে আশির দশকের আদলে ছবি তৈরির প্রবণতা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই জেমিনাই বা চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবট ব্যবহার করে নিজের ছবিকে সেই সময়ের পোশাক, চুলের ধরন কিংবা তরুণ বয়সের অবয়বে রূপান্তর করছেন। তবে এই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার সময় অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কথা ভুলে যাচ্ছেন—ছবি তৈরির জন্য আপলোড করা মূল ফাইলগুলো এআই প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে স্থায়ীভাবে রয়ে যেতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চ্যাটবটে কোনো ছবি আপলোড করা মানে শুধু একটি ফাইল জমা দেওয়া নয়, এর সঙ্গে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অনেক তথ্যও যুক্ত থাকে। একটি ছবি বিশ্লেষণ করে সেটি কখন, কোথায় এবং কোন ডিভাইসে তোলা হয়েছে, তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। এছাড়া মানুষের মুখমণ্ডল নিজেই একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। ফলে এ ধরনের ছবি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবুধাবির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা পপার জানিয়েছেন, এআই চ্যাটবটগুলো বিভিন্ন স্তরে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর চ্যাট বা বার্তার বিষয়বস্তু, আপলোড করা ফাইল, ডিভাইসের আইপি ঠিকানা, যন্ত্রের ধরন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ডে অংশ নিতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই এআই টুলগুলোকে নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ নীতি অনুযায়ী, এই ছবি ও তথ্যগুলো দীর্ঘ সময় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি থেকে ব্যবহারকারী চ্যাট মুছে ফেললেও ওপেনএআইয়ের সার্ভারে তা ৩০ দিন পর্যন্ত থেকে যায়। জেমিনাইয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য ডিফল্টভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিকের ক্লড চ্যাটবট থেকে চ্যাট মুছে ফেললে তা ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাকএন্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ব্যবহারকারী যদি তাঁর চ্যাট এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন, তবে সেই তথ্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে এআই সেবা ব্যবহারের ফলে চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীর ছবি, প্রশ্নের ধরন এবং কাজের ধরণ বিশ্লেষণ করে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে ফেলে। বর্তমানে ই-মেইল, অনলাইন কেনাকাটা এবং ব্যক্তিগত অ্যালবামের মতো বিভিন্ন সেবার সঙ্গে এআই যুক্ত হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই যেকোনো এআই টুলে ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেগুলোর তথ্য সংরক্ষণ নীতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content