প্রতিনিধি 1 September 2026 , 8:45:02 প্রিন্ট সংস্করণ

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য ও অন্ধকার শক্তির স্বরূপ উন্মোচনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। গত ৩০ আগস্ট ফ্লোরিডার কেপ কানাভেরালস্থ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বাজেটের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।

উৎক্ষেপণের পর টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার বা ১০ লাখ মাইল দূরে অবস্থিত ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট টু (L2) নামক স্থানে অবস্থান নেবে। রোমান স্পেস টেলিস্কোপের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকেনারি এই মিশনকে বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন সূচনার পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূলত একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছিল, যা এখন মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত হবে। এর কার্যক্ষমতা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের চেয়ে বহুগুণ বেশি; হাবল যে পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি জরিপ করতে এক শতাব্দী সময় নেবে, রোমান টেলিস্কোপ তা মাত্র এক মাসেই সম্পন্ন করতে সক্ষম।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক জ্যাকি টাউনসেন্ড জানিয়েছেন, আগামী নব্বই দিন বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপটি পুরোপুরি সচল ও বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের উপযোগী করে তুলতে কাজ করবেন। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শীতকালীন ছুটির আগেই এটি প্রথম উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি পৃথিবীতে পাঠাতে শুরু করবে। টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি মানচিত্র তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে, যার মূল জরিপ সম্পন্ন করতে এক বছরের বেশি সময় ব্যয় হবে।
এই বিশাল জরিপের মাধ্যমে ২০০ কোটিরও বেশি গ্যালাক্সির তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মহাবিশ্বের প্রায় ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার এবং ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি বা অন্ধকার শক্তি দ্বারা গঠিত। রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ডার্ক ম্যাটারের আকর্ষণ এবং ডার্ক এনার্জির বিকর্ষণ শক্তি পরিমাপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের অমীমাংসিত রহস্যগুলোর সমাধান খুঁজবে। এছাড়া সৌরজগতের বাইরের হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা এক্সোপ্যানেট আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও এই টেলিস্কোপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই জরিপে ২০০ কোটিরও বেশি গ্যালাক্সির তথ্য থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অজানা এক জগতের দিকে পা বাড়াতে যাওয়ার মতো অনুভূতি এটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ন্যাশনাল রিকনেসান্স কার্যালয় এটি পরিচালনা করে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের জন্য তারা প্রস্তুতি নেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাজার হাজার নতুন গ্রহও আবিষ্কার করবে টেলিস্কোপটি।
সূত্র: প্রথম আলো



















