রাজনীতি

তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ বার্তা দিল্লির, মিলতে পারে অভাবনীয় উপহার

  প্রতিনিধি 14 August 2026 , 7:26:55 প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দিল্লি এই সফরটি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রায় পাঁচ মাস আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান অগ্রাধিকার। এমনকি ভারত সফরে গেলে তারেক রহমানকে খালি হাতে ফিরতে হবে না, বরং তাকে ‘অভাবনীয়’ কোনো কূটনৈতিক উপহার দেওয়া হতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে রেল, সড়ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ওপর যে বিধিনিষেধগুলো ভারত আরোপ করতে বাধ্য হয়েছিল, সেগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের অভিমত, হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি জটিল আইনগত প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। তাই এই ইস্যুকে এড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করা জরুরি।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সফরটি সম্পন্ন করা সবচেয়ে ভালো হবে, কারণ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন। শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর একান্ত আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এরপরই হাইকমিশনার দিল্লি গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ঢাকায় ফিরে তিনি সফরটি নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা চালাবেন বলে জানা গেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। দুই দিনের এই সফরের অংশ হিসেবে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে। এতে বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তারেক রহমানকে দ্রুত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব বিধিনিষেধ ভারত চাপাতে বাধ্য হয়েছিল সেসব উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

কেননা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পর বছরভর নানা ভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের বাংলাদেশের মনোভাব জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বিস্তারিত জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ভারতেরও এ ধরনের বহু প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর আটকে রয়েছে।

ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সফরের সম্ভাবনা থাকবে না।

এর পরেই ভারতীয় হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি চলে আসেন।

ওদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

এ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকও হয়ে উঠতে পারে।

তবে সফরের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box

আরও খবর

Sponsered content