প্রতিনিধি 18 August 2026 , 1:22:55 প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই আপত্তির কথা জানানো হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় রয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত খোদ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করে এসেছে।

গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বিবৃতিতে উপস্থাপিত অনেক তথ্যই ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমেই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সঠিক সংখ্যা ও চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সম্মত ব্যবস্থার আওতায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ এ সময় নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলমান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে জানায় যে, ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের আগের তালিকার বাইরেও নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যাচাই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নেয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মিয়ানমারকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ে বাংলাদেশের উত্থাপিত উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণগুলো গুরুত্বসহকারে তার সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে যাচাইকরণ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই ও স্থায়ী সমাধান হলো রাখাইনে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
সূত্র: মানবজমিন


















